পার্লামেন্টের আস্থা ভোটে হেরে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর পদ খোয়ালেন ফ্রাঁসোয়া বায়রু। সোমবার দেশটির পার্লামেন্টে আস্থা ভোট আয়োজন করা হয়। এতে ৫৫৮ জন সংসদ সদস্যের (এমপি) মধ্যে বায়রুর বিপক্ষে ভোট দেন ৩৬৪ জন। অন্যদিকে তার পক্ষে ভোট পড়ে ১৯৪টি।
সরকার টিকিয়ে রাখতে বায়রুর প্রয়োজন ছিল অন্তত ২৮০ ভোট। কিন্তু পরিষ্কারভাবেই আস্থা ভোটে হেরে যান তিনি। এর ফলে ক্ষমতা নেওয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। এদিকে প্রধানমন্ত্রী অপসারিত হওয়ায় নতুন এক রাজনৈতিক সংকটে পড়তে যাচ্ছে ফ্রান্স।
একাধারে অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক উত্থানপতনের সময় ফ্রান্স কার্যত সরকারবিহীন হয়ে পড়েছে। ফ্রাঁসোয়া বায়রুর পূর্বসূরি মিশেল বার্নিয়ারও গত ডিসেম্বরে আস্থা ভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। তারই স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন বায়রু।
সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়, মূলত একটি বিতর্কিত সঞ্চয় পরিকল্পনা পাশ করাতে পার্লামেন্টে আস্থা ভোট ডাকেন প্রধানমন্ত্রী বায়রু। ওই পরিকল্পনায় ৪৪ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় সংকোচন, সরকারি খরচ স্থগিত রাখা এবং দুটি সরকারি ছুটি বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু দেশটির এমপিরা তা প্রত্যাখ্যান করে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার ম্যাক্রোঁর হাতে প্রধানমন্ত্রী পদে বসানোর জন্য তেমন গ্রহণযোগ্য বিকল্প নেই।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিনের নাম আলোচনায় আছে। তবে বিরোধী শিবির স্পষ্ট করে দিয়েছে, ফের কোনো মধ্যপন্থী নিয়োগ পেলে তারা আবার সঙ্গে সঙ্গে আস্থা ভোট ডাকবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, ফ্রান্সের রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী ‘ন্যাশনাল র্যালি’ দলের সাফল্যে ক্ষুব্ধ হয়ে হুট করেই দেশে জাতীয় নির্বাচন দেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ।
তবে এতে হিতে বিপরীত ঘটে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ পদ ধরে রাখলেও পার্লামেন্টে আসন হারায় তার দল। মিশেল বার্নিয়ার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নিজ আস্থাভাজন বায়রুকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ।
তবুও অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফ্রান্স। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে গোটা ইউরোপ জুরে অস্থিরতায় আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে বরং পিছিয়ে পড়ছেন ম্যাক্রোঁ।
ক্ষমতাচ্যুত বায়রু এমপিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা সরকার নামিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু বাস্তবতা মুছে ফেলতে পারবেন না। ঋণের বোঝা ক্রমেই বাড়বে।’


