জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা এ মামলার শুনানি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ চলছে।
রোববার ট্রাইব্যুনাল-২-এ আসামিপক্ষের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান। এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, আবদুস সোবহান তরফদার ও ফারুক আহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন। তবে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক অসমাপ্ত থাকায় শুনানি আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম ও চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, উপপরিদর্শক (এসআই) মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল। তবে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আটজন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
গত বছরের ২ জুলাই প্রসিকিউশন এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে। অভিযোগপত্রের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার অন্যান্য তথ্যসূত্র, ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণাদি এবং দুটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেয় এবং পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয়জন নিহত হন। পরে তাদের মরদেহ পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন ব্যক্তি জীবিত ছিলেন। তাকেও পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এর আগের দিন একই ঘটনায় আরও একজন নিহত হন।
এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।


