সমাজে যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আলেম-ওলামাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, রাজনীতি নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মধ্যে বিরোধ দেখা যায়। হীন রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মীয় ব্যাখ্যা, সমাজে বিশৃঙ্খলা নিয়ে আসে। সমাজে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে আলেমদের সতর্ক থাকতে হবে।
রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মিলিত ইমাম-খতিব জাতীয় সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি বরাবরই ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থবিরোধী তৎপরতা রোধে সোচ্চার। শাপলা চত্বরে হানাদার বাহিমীর মতো ক্র্যাকডাউন চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের তাবেদারি শাসন প্রমাণ করেছে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের বিকল্প নেই। ইনসাফভিত্তিক দেশ গড়তে আগামী নির্বাচন ইমাম-খতিব ও মুয়াজ্জিনদের দোয়া ও সমর্থন চান তিনি।
ইমাম-খতিবদের রাষ্ট্র সংস্কার কাজের বাইরে রেখে অগ্রগতি সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মসজিদ কমিটির ওপর ইমাম মুয়াজ্জিনদের চাকরি নির্ভর থাকা উচিত নয়। বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে ইমাম মুয়াজ্জিনদের সার্ভিস রুলস বাস্তবায়নের বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করবে।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা আমাদের ইমাম, আপনাদের আমরা সন্মান দেখাতে চাই। আপনারা সমাজের ইমাম হবেন। আপনাদের অনুসরণ করেই আমরা এগিয়ে যাব। আমরা বিশ্বাস করি, ইমামরা যেদিন সমাজের ইমাম হবেন সেদিন আমাদের মুক্তি হবে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে। তারা কোরআন মানে, রাসুল (সা.) কে শেষ নবী মানে। তাই এদেশের আইন চলবে কোরআনের মতবাদে। এই জায়গায় যতদিন দেশ না আসবে, ততদিন মানবিক সমাজ আমরা কায়েম করতে পারব না। আল্লাহর আইন ছাড়া মনগড়া মতবাদে সমাজে শান্তি ও সন্মান আসবে না।
ইসলামকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে সারা দেশে ওলামা কেরামের যে মাঠ তৈরি হয়েছে তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আর এদেশে নাস্তিকতা, ফ্যাসিবাদের কোনো স্থান থাকবে না। এদেশে আলেম-ওলামাদেরর নেতৃত্ব থাকতে হবে।
আওয়ামী লীগ ইসলামবিরোধী রাজনীতি করেছে মন্তব্য করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে বিগত ১৬ বছর ইসলাম বিরোধীদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, আওয়ামী লীগ ইসলামবিরোধী রাজনীতি করেছে, আওয়ামী লীগ ভারতের দালালি করেছে। আমরা এবার কারও দালালি নয়, নিজেদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজের পায়ে বাংলাদেশ গড়ে তুলব এবং সেই বাংলাদেশ হবে ইনসাফের বাংলাদেশ।
কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো কানুন নয় উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকদের অধিকার আচার-অনুষ্ঠান নিশ্চিত করার বিধান সংবিধান আছে। আমরা সেটা করব।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কোরআন ও সুন্নাহ বিপরীতে যদি কিছু থাকে সেটা বাতিল করা হবে। সংবিধানের মূলনীতিতে শহীদ জিয়াউর রহমান ‘বিসমিল্লাহহির রাহমানির রাহিম’ সন্নিবেশিত করেছিলেন আগামীতে এটা সংবিধানে পুনবর্হাল করা হবে।
সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদের আহ্বায়ক বায়তুল মোকাররম মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহিবুল্লাহির বাকী নদভীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন হেফাজতে মাওলানা জোনায়েদ আল হাবিব, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি হাবিবুর রহমান কাশেমী, মুফতি বশির উল্লাহ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, নেজামী ইসলাম পার্টি মুফতি মুসা বিন ইজহার, শায়খ আহমদুল্লাহ, মাওলানা মুনির হোসাইন কাশেমী, মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, মাওলানা আবদুল্লাহ বিন আবদুর রাজ্জাক,মাওলানা গোলাম রাব্বানীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ইমাম-খতিবরা।


