রাজশাহীতে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্দা উঠছে জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের মূল পর্বের। প্রাথমিক পর্ব থেকে উঠে আসা ছয় ভেন্যুর চ্যাম্পিয়ন, স্বাগতিক রাজশাহী ও একটি সেরা রানার্সআপ দল নিয়ে আয়োজন হওয়ার কথা থাকলেও এবার ব্যতিক্রম হলো রাঙামাটিকে ঘিরে।
রাঙামাটি জোনের চ্যাম্পিয়ন হয়েও মূল পর্বে খেলছে না দলটি। শুধু তাই নয়, তাদের জায়গায় সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে তৃতীয় স্থান অধিকারী খাগড়াছড়ি। এ প্রসঙ্গে আজ বাফুফের সংবাদ সম্মেলনে নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেন, ‘রাঙামাটি চ্যাম্পিয়ন হয়েও অংশ নিচ্ছে না। তাদের জোনের রানার্সআপ কক্সবাজারও খেলতে রাজি হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই খাগড়াছড়িকে মূল পর্বে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
নারী ফুটবলে রাঙামাটি বহুদিন ধরেই একটি নির্ভরযোগ্য ঘাঁটি। এখান থেকেই উঠে এসেছে ঋতুপর্ণা চাকমার মতো ফুটবলার। অথচ সেই রাঙামাটি এবার মাঠে নামছে না। কিরণ জানান, ‘তারা কোনো কারণ উল্লেখ করেনি, কেবল চিঠি দিয়ে জানিয়েছে খেলতে পারবে না। বিষয়টির দুটো দিক আছে। একদিকে তারা চ্যাম্পিয়ন দল, ফলে খেললে প্রতিযোগিতার মান আরও ভালো হতো। আবার অন্যদিকে, তাদের না খেলায় আরেকটি জেলা সুযোগ পাচ্ছে নিজেদের প্রমাণের।’
রাঙামাটি জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাবেক জাতীয় ফুটবলার বরুণ বিকাশ দেওয়ান অবশ্য কারণ জানালেন স্পষ্ট করেই। তিনি বলেন, ‘রাঙামাটিতে এখন আন্তঃস্কুল ফুটবল চলছে। আমাদের সব খেলোয়াড় স্কুলের, তাই স্কুল না ছাড়ায় মাঠে নামা সম্ভব হয়নি। আমরা অনুরোধ করেছিলাম এক সপ্তাহ পিছিয়ে দিলে খেলতে পারতাম।’
অর্থনৈতিক দিক থেকেও রাঙামাটি জেলায় চাপ তৈরি হয়েছে। বরুণ বিকাশ দেওয়ান জানান, ‘জেএফএ কাপে আমরা স্বাগতিক ছিলাম। ফেডারেশন মাত্র ২০ হাজার টাকা দিয়েছে, বাকি টাকা এখনো পাইনি, অথচ খরচ হয়েছে অনেক বেশি। প্রতিটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ব্যয় ফেডারেশন থেকে পাওয়া অর্থের তুলনায় কয়েকগুণ।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ পরিস্থিতিতে রাঙামাটি হয়তো সামনের অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্টেও খেলতে পারবে না।
বাফুফের নারী উইং প্রধানও এ বিষয়ে স্বীকার করেন যে একই সময়ে তিনটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা চলায় অনেক জেলা ফুটবল সংস্থার জন্য এটি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে চলমান রয়েছে পুরুষ অনূর্ধ্ব-১৫, নারী অনূর্ধ্ব-১৪ এবং জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। এতে খেলোয়াড়দের সমন্বয় থেকে শুরু করে অর্থসংকট সব দিকেই চাপ তৈরি হয়েছে।
১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া মূল পর্বে ‘এ’ গ্রুপে খেলবে স্বাগতিক রাজশাহী, খাগড়াছড়ি, ময়মনসিংহ ও রংপুর। অপরদিকে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা ও মানিকগঞ্জ। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। চূড়ান্ত লড়াই অনুষ্ঠিত হবে ২৫ সেপ্টেম্বর।
নারী ফুটবলে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থেকে বারবার প্রতিভা উঠে আসছে। এ কারণেই জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টকে ভবিষ্যতের তারকা তৈরি করার আসর হিসেবেই দেখা হয়। রাঙামাটি এবার খেলতে না পারলেও নতুন মুখ নিয়ে খাগড়াছড়ির উপস্থিতি হয়তো টুর্নামেন্টে আলাদা মাত্রা যোগ করবে।


