রাত পেরিয়ে সকাল হলেও পঞ্চগড়ের হাড়ীভাসা সীমান্তে আটকে থাকা ১০ জনের ভাগ্য বদলায়নি। ভারতীয় শূন্য রেখায় কৃষিজমির মাঝখানে এক হাত চওড়া সরু আইলে তিন শিশু, নারী ও পুরুষ নিয়ে ১০ জন চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
সদর উপজেলার বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তে টানা দুই রাত ধরে তারা আটকে আছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা দুই দেশের মাঝামাঝি শূন্য রেখায় আটকা পড়েন। ভারত তাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে না, বাংলাদেশও তাদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
শনিবার গভীর রাতেও তারা ওই সরু আইলের ওপর বসার বা শোয়ার চেষ্টা করেছেন। শোয়ার জন্য কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করতে হয়েছে। সামান্য নড়াচড়া করলেই পা পাশের জমে থাকা পানিতে ডুবে যায়। রাতে বৃষ্টি আর দিনের প্রখর রোদ— দুটোই সহ্য করতে হচ্ছে তাদের।
রোববার সকালে সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শিশুদের মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। বৃদ্ধ এক ব্যক্তিও দুর্বল হয়ে পড়েছেন। দুদিনের বেশি সময় ধরে স্বাভাবিক খাবার ও বিশ্রাম না পেয়ে সবাই শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, ‘দুই রাত হয়ে গেল। রোদ-বৃষ্টি সব সহ্য করছি। ঠিকমতো খাবার নেই, থাকার জায়গা নেই। আমরা চাই এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক।’
তাদের অভিযোগ, তৃষ্ণা মেটাতে মাঝে মাঝে পাশের জমির পানি পান করতে হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে কিছু শুকনো খাবার ও পানি দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা মেলেনি।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা তজমল আলী বলেন, ‘বিএসএফ যে কাজটি করেছে সেটি ঠিক করেনি। তারা যাদের পুশইন করেছে, তাদের যেন দ্রুত ফিরিয়ে নেয়। মানুষগুলোর অনেক কষ্ট হচ্ছে।’
স্থানীয় যুবক মাসুম আলী বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই পুশইন করতে দেব না। বিজিবিকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি। তবে পুশইন হওয়া মানুষগুলো অনেক কষ্ট করছে, এটার সমাধান হওয়া উচিত।’
হাড়ীভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ-ই নুরে আলম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম কানুন উপেক্ষা করে মানুষকে এভাবে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই মানবিক নয়। নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সবাই অনেক কষ্টে আছেন। বিষয়টি দুই দেশকে সমাধানের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি। তাদের ভারতীয় সীমান্ত থেকে পার করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বিএসএফ বিষয়টি অস্বীকার করছে। সীমান্তে আমাদের নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে।’


