আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিচার বিভাগে সুবিচারের পরিবর্তে অবিচারই প্রাধান্য পেয়েছিল। এ সময় বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়।’
রোববার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আপিল বিভাগের এক নম্বর বিচারকক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে তাকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
আওয়ামী শাসনামলে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল উল্লেখ করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। তিনি বলেন, জনগণের আশা-আকাংখার সর্বশেষ ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল আদালত। যার জন্য জুডিশিয়াল রিভিউয়ের ক্ষমতা উচ্চ আদালতের কাছে রাখা হয়েছে। কিন্তু বিগত স্বৈরশাসনের সময়ে সেখানে অসহায় মানুষের ঠাঁই হয়নি।
গত পনের বছরে বিচার বিভাগের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির প্রভাব পড়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি বলেন, অকারণ দীর্ঘসূত্রিতা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অতি দ্রুত বিচার বিচার বিভাগের স্বকীয়তা ও স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, ফলে মানুষের প্রত্যাশা ভেঙে পড়ে।
তবে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর বিচার বিভাগে নতুন সম্ভাবনার সূচনা হয়েছে এবং হারানো গৌরব ও মর্যাদা ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে জানান তিনি।
এ ছাড়া বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দুর্নীতি উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচার বিভাগকে সিন্ডিকেটমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত করা জাতির প্রত্যাশা। দুর্নীতি শুধু আর্থিক নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি আরও ভয়াবহ জানিয়ে তিনি শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে সব স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূলের আহ্বান জানান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি জানান, রাষ্ট্রের অন্য দুই অঙ্গ ব্যর্থ হলে বিচার বিভাগই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। সব বাধা উপেক্ষা করে অনুরাগ-বিরাগের ঊর্ধ্বে থেকে সত্য উদঘাটনের মাধ্যমেই বিচার বিভাগের মর্যাদা অটুট রাখতে হবে।
এ সময় বিচার বিভাগ যেন আর কখনও তার সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত না হয়, অনাকাঙ্ক্ষিত সমালোচনা বা অপ্রত্যাশিত আক্রমণের মুখে না পড়ে এবং কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থের কেন্দ্রে পরিণত না হয় এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব স্তরের ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।


