চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ শহিদুল ইসলাম বুইস্যাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৭ (র্যাব)।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বহদ্দারহাট এলাকার পাঁচলাইশ থানার ফিনলে সাউথ সিটির সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার বেলা ১২টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব এ তথ্য জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারের সময় বুইস্যার কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার শহিদুল ইসলাম বুইস্যা (২৮) ভোলা জেলার দৌলতখান থানার ভাণ্ডারীর বাড়ির বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার পশ্চিম ষোলশহর এলাকায় বসবাস করতেন।
র্যাব আরও জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত ৪২টি মামলা রয়েছে। এর আগেও তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন।
র্যাব আরও জানিয়েছে, সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালানো হয়। মোটরসাইকেলে আসা এক যুবককে তাদের সন্দেহ হলে থামার সংকেত দেওয়া হয়। সে সময় যুবক পিস্তল বের করে গুলি করার চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।
গত ৪ অক্টোবর পাঁচলাইশের বাদুড়তলা এলাকায় একটি গ্যারেজের সামনে বুইস্যার সহযোগী মুন্নার গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে, গত বছরের ১০ নভেম্বর চান্দগাঁও থানার পাশে একটি গ্যারেজে চাঁদা না পেয়ে গুলি করেন বুইস্যা।
একই বছরের ১৯ অক্টোবর তিনি ও তার সহযোগীরা মনিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন।
পুলিশ ও র্যাব জানিয়েছে, বুইস্যার বাহিনীতে অন্তত ৩০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে বহুজন একাধিক মামলার আসামি। নগরের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকায় একটি ভবনের ফ্ল্যাটকে তিনি ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করতেন।
গত ২১ জুলাই সেখানে অভিযান চালিয়ে তার ১১ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকে দেশি অস্ত্র, গুলি এবং থানা থেকে লুট হওয়া গুলির খোসা উদ্ধার করে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, চুরি ও ছিনতাই দিয়ে অপরাধজগতে হাতেখড়ি হয় বুইস্যার।
পরে তিনি মাদক কারবারিতে জড়িয়ে পড়েন এবং আধিপত্য বিস্তারে গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী। চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের নেতা হিসেবে তিনি পরিচিত। চাঁদা না পেলে তিনি প্রকাশ্যে গুলি ছুড়তেন।
‘সন্ত্রাসী বুইস্যা’র কাছে মোট কত অস্ত্র রয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি পুলিশ।
তবে গত ৯ অক্টোবর তার তিন সহযোগীর কাছ থেকে ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৩টি ম্যাগাজিন ও ৫৮টি বুলেট উদ্ধার করা হয়।


