অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন তার ৪৬ বছর বয়সী স্ত্রী এবং ৪ ও ১২ বছর বয়সী দুই ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাতে ক্যাম্পবেলটাউন এলাকার নিজ বাসা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই ব্যক্তিকে তিনটি আলাদা ‘ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স মার্ডার’ অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
তদন্তে পুলিশ দাবি করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি কয়েক মাস ধরে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন এবং সেখানকারই আরেকটি ঘটনার খবরে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।
কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই ট্রিপল জিরোতে (অস্ট্রেলিয়ার জরুরি সেবা নম্বর) ফোন করে বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করেছি… ছুরি দিয়ে।’ পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মাইকেল মোরোনি ঘটনাস্থলকে ‘অত্যন্ত সহিংস ও ভয়াবহ অপরাধস্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জানা গেছে, পরিবারটি প্রায় ১০ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নেয়। তার স্ত্রী কাজ করতেন। আর অভিযুক্ত ব্যক্তি বাসায় থেকে সন্তানদের দেখাশোনা করতেন। দুটি শিশুই অটিজমসহ বিকাশজনিত সমস্যায় ভুগছিল।
২০২৪ সালে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। পরে জানুয়ারিতে পার্থে ঘটে যাওয়া একটি হত্যা-আত্মহত্যার ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এমন সহিংসতার পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এমন ঘটনার পর গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় কমিউনিটিতে। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস মিন্স বলেন, ‘এই ঘটনায় মানুষের ক্ষুব্ধ ও শোকাহত হওয়া স্বাভাবিক।’ পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলায় বাজেটে আরও অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তথ্যসূত্র: দি সিডনি মর্নিং হেরাল্ড


