অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব নিতে যাচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুজান কোয়েল। দেশটির ১২৫ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী, যিনি এই মর্যাদাপূর্ণ পদের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। আগামী জুলাই থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, সেনাবাহিনীতে তিন দশকের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তা কোয়েলকে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ‘উল্লেখযোগ্য প্রার্থী’ হিসেবে ঘোষণা করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস। এই নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সুজান একবার আমাকে বলেছিলেন, “যা আপনি কখনো দেখেননি, তা আপনি হতেও পারবেন না”। সুজানের এই অর্জন বর্তমান এবং ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে ইচ্ছুক নারীদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’
সুজান কোয়েল বর্তমানে ‘চিফ অব জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিস’ হিসেবে কর্মরত আছেন, যেখানে তিনি সাইবার এবং মহাকাশ কমান্ডের দায়িত্ব পালন করছেন।
কোয়েল ১৯৮৭ সালে সেনাবাহিনীর রিজার্ভে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্স একাডেমি থেকে কর্মকর্তা হিসেবে স্নাতক শেষ করেন।
কর্মজীবনে তিনি তথ্য যুদ্ধ বিভাগের প্রধান (ইনফরফেশন ওয়ারফেয়ার), মধ্যপ্রাচ্যে যৌথ টাস্ক ফোর্স ৬৩৩-এর কমান্ডার এবং আফগানিস্তানে টাস্ক গ্রুপ কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া পূর্ব তিমুর, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ এবং আফগানিস্তানে অস্ট্রেলিয়া সেনাকমান্ডের নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে তাকে যৌথ সক্ষমতা প্রধান (চিফ অব জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিস) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পদে মূলত তার ওপর সাইবার ও মহাকাশ কমান্ডসহ যুদ্ধকালীন তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব ছিল।
কোয়েলের স্বামীও সামরিক বাহিনীতে কর্মরত। তিনি তিন সন্তানের মা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস বলেন, প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে নারী সেনা কর্মকর্তা কোয়েলের এই নিয়োগ ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে কোয়েলের সঙ্গে পদোন্নতি পেয়েছেন বর্তমান নৌপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক হ্যামন্ড। তাকে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তিনি অবসর নিতে যাওয়া অ্যাডমিরাল ডেভিড জনস্টনের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
রোববার এই নতুন নিয়োগ ঘোষণা করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। তিনি বলেন, ‘হ্যামন্ড রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনীতে ৪০ বছরের বিস্তৃত ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটি উজ্জ্বল কর্মজীবন পার করেছেন। ভাইস অ্যাডমিরাল হ্যামন্ড প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্বে মূল্যবান অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবেন।’

হ্যামন্ড ১৯৮৬ সালে একজন ইলেকট্রনিক্স টেকনিশিয়ান হিসেবে নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং দুই বছর পর নৌ কর্মকর্তা হন। তিনি কলিন্স শ্রেণির সাবমেরিনে দায়িত্ব পালন করেন এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে এইচএমএএস ফার্নকম্ব সাবমেরিনের কমান্ডার ছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে সহকারী নৌ এটাশে হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে ২০২২ সালের জুলাইয়ে তিনি নৌপ্রধানের দায়িত্ব নেন এবং কয়েক বিলিয়ন ডলারের ‘আউকাস পারমাণবিক সাবমেরিন’ চুক্তির কাজ তদারকি করেন।
হ্যামন্ড সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি সম্ভবত আমার কর্মজীবনের সবচেয়ে আবেগময় মুহূর্ত। চ্যালেঞ্জিং ও কঠিন সময়ে অস্ট্রেলিয়ার নাবিক, সৈনিক ও বিমানসেনাদের সঙ্গে এবং তাদের জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে কাজ করার জন্য আমি প্রস্তুত।’
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একইসঙ্গে জানিয়েছে, বর্তমান নৌপ্রধান হ্যামন্ডের উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল ম্যাথিউ বাকলিকে পদোন্নতি দিয়ে নৌপ্রধান করা হবে।


