আওয়ামী লীগ আমলে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামানের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংসদ সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে। পাচার হওয়া এই অর্থ উদ্ধারে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স ১১টি গুরুত্বপূর্ণ মামলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং এসব মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ১১টি মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, এইচ বি এম ইকবাল এবং সামিট গ্রুপ।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, পাচার হওয়া অর্থ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত হওয়ায় তা উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকংসহ ১০টি দেশকে পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মতি দিয়েছে, অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলমান।
তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। বিদেশে জব্দ করা হয়েছে আরও ১৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার সম্পদ। সব মিলিয়ে মোট ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া এ বিষয়ে ১৪১টি মামলা দায়ের, ১৫টিতে চার্জশিট এবং ৬টিতে রায় দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে।


