রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জিএম, যানবাহন) মিজানুর রশীদকে অর্থ বিভাগ এবং প্রশাসন-মানবসম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অনিয়মের একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় এ দায়িত্ব দেওয়ায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি জারি করা এক অফিস আদেশে তাকে অর্থ বিভাগ ও প্রশাসন-মানবসম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অর্থ বিভাগ সরাসরি বাজেট, ব্যয়, ক্রয় এবং আর্থিক অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত, আর মানবসম্পদ বিভাগ নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তদারকি করে।
বিমানের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে নানা অনিয়মের কারণে সংস্থাটির হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির উল্লেখ রয়েছে।
একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এবং এ জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তাকে দুদকে তলব করা হয়।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক বিভাগীয় তদন্তও হয়েছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টাইমস অব বাংলাদেশকে মিজানুর রশীদ বলেন, বিভাগীয় ও দুদকের তদন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে।
তিনি বলেন, একজন অ্যাভিয়েশন এক্সপার্ট হিসেবে তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগে তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন।
বিমানের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া প্রতিবেশী একটি দেশের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সফটওয়্যার কেনা, বাজারদামের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি ক্রয়, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে বাড়িভাড়া উত্তোলন, নিয়মবহির্ভূত বোনাস গ্রহণ এবং সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে।
নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে তার সঙ্গে ভারতের নাগরিক ভিনিত সুদের যোগসূত্রের অভিযোগও রয়েছে। তবে তিনি দেশে না থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।


