অবশেষে, নির্বাচিত হওয়ার ৫০তম দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জন্য প্রাথমিক বাজেট অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ডাকসু এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হল সংসদের কার্যক্রম সচল রাখতে মোট ৪৩ লাখ টাকার বরাদ্দের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জন্য ২৫ লাখ এবং প্রতিটি হল সংসদের জন্য ১ লাখ টাকা নির্ধারিত করে কর্তৃপক্ষ। ডাকসুর ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এইচ. এম. মোশারফ হোসেন বৃহস্পতিবার টাইমস অব বাংলাদেশকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এছাড়াও লন্ডন ও ইতালি সফর শেষে উপাচার্য দেশে ফিরলে ডাকসুর পরিপূর্ণ বাজেট নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেন তিনি।
এর আগে বাজেট এবং তহবিল সংক্রান্ত বিষয়ে ডাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা টানাপোড়েনের মধ্যে ২১ অক্টোবর ডাকসুর সহ-সভাপতি সাদিক কায়েম টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, “১৯৯০ সাল থেকে সংগৃহীত শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময় ডাকসু তহবিলে দেওয়া অর্থের হিসাব দেওয়ার জন্য আমরা প্রশাসনকে এক সপ্তাহ সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলাম। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সে হিসাব দেয়নি”।
পরবর্তীতে, ২৬ অক্টোবর, নবনির্বাচিত ডাকসু প্রতিনিধিরা তহবিল সংক্রান্ত তিন দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের অফিস ঘেরাও করলে প্রশাসন ও ডাকসু নেতাদের মধ্যে তৈরি হয় তীব্র বিতর্ক। তবে, বিতর্কের অবসান ঘুচিয়ে এবার এই প্রাথমিক বাজেট অনুমোদনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন ডাকসু প্রতিনিধিরা।
এ বিষয়ে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস. এম. ফরহাদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘যেহেতু এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক বাজেট, আমরা এটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছি। আপাতত আমরা এই বাজেট দিয়ে আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাব।’
প্রাথমিক বাজেটটি মূলত সাংস্কৃতিক, সামাজিক কার্যক্রম আয়োজন এবং চলমান অন্যান্য প্রকল্পের জন্য ব্যবহার করা হবে বলেও জানান তিনি।
যদিও, ডাকসুর জন্য আলাদাভাবে দেওয়া বাজেটকে অপ্রয়োজনীয় মনে করছেন সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল হক নুর। বাজেট সংকট ও নির্দিষ্ট তহবিলের অভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘ডাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ করে না, তাই শিক্ষার্থী সংস্থার জন্য খুব বড় একটি আলাদা বাজেট প্রয়োজন নেই।’


