জ্বালানি সাশ্রয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। একই সঙ্গে দেশের সব দোকানপাট, বাণিজ্য বিতান ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
রাত পৌনে ৯টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক শুরু হয়। রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক চলে।
পরে সংসদ ভবনের বাইরে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি জানান, দেশের সব দোকানপাট, বাণিজ্য বিতান ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ থাকবে। বিপনি বিতানসহ বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না।
নাসিমুল গনি বলেন, ‘আজকে মূলত আলোচনাটা হয়েছে, আমরা কীভাবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে যেখানে আমাদের সাপ্লাই লাইনটা অনিরাপদ হয়ে গেছে, সেটাকে মোকাবিলার জন্য আমরা কী কী ব্যবস্থা নিতে পারব। এর মধ্যে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তার মধ্যে একটা আছে, বাণিজ্যিক অফিসগুলোর সময় আমরা এক ঘণ্টা কমিয়ে নিয়ে আসছি। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অফিস চলবে। এটা সরকারি-বেসরকারি সব অফিসের জন্য প্রযোজ্য। আর ব্যাংকগুলো চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এবং বিকাল ৪টায় ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাবে।’
শিক্ষা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন এলাকার চাহিদা ও বিভিন্ন পর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে রোববার থেকে কিছু আলাদা নির্দেশনা দেওয়া শুরু করবে।’
‘এ ছাড়া সরকারি কিছু ব্যয় আগামী তিন মাসের জন্য হ্রাস করা হচ্ছে। সরকারি কোনো নতুন যানবাহন ক্রয় করা হবে না। কোনো জলযান, কোনো আকাশযান ও কোনো কম্পিউটার সামগ্রী ক্রয় করা হবে না।’
তিনি আরও জানান, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের কার্যক্রম ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। নতুন কোনো আদেশ না আসা পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নের সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ‘সভা-সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারের যে ব্যয় হতো, তা আরও ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
‘এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমাতে বলা হয়েছে। এ খাতে ব্যয়ও ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে’, বলেন তিনি।
এদিকে, বৈঠকে মন্ত্রিসভার সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে সব কাজে সতর্ক ও সজাগ থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশের মানুষকে বর্তমান পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
ব্রিফিংয়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, মঙ্গলবার সকালে দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতি। এদিকে সরকার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে হোটেল, ফার্মেসি এবং জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান, কাঁচাবাজার এর আওতাবহির্ভূত থাকবে।


