ফ্লাডলাইটের নিচে শরীফুল ইসলামের হাতে নতুন বল, স্ট্রাইকে তারই বিশ্বকাপজয়ী দলের সতীর্থ পারভেজ হোসেন ইমন। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলটা ইমন ডট দেয়ার পর এই বাঁহাতি পেসার তার দিকে ছুটে গিয়ে বলে উঠলেন, ‘কি রে! আস্তে করমু?’ সেই ওভারে শেষ বলে আউট হওয়ার পর মজাচ্ছলে ইমনকে আরো কিছু একটা বলেছেন শরীফুল। শামীম পাটোয়ারী এসেছেন ব্যাটিংয়ে, শরীফুল তাকেও দু কথা শোনাতে ছাড়েননি। অদম্য দলের তানভীর ইসলামকেও দেখা গেছে অপরাজেয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে কথার লড়াইয়ে জড়াতে।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) আয়োজিত বিজয় দিবস প্রীতি ম্যাচজুড়ে এভাবেই দেখা গেছে দুই দলের ক্রিকেটারদের। অপরাজেয় দলের দেয়া ১৬৭ রানের লক্ষ্য নাইম শেখের ৪৪ বলে ৭৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংসে ভর করে ৭ উইকেট হারিয়ে টপকে গেছে অদম্য। ৩ উইকেটের এই জয়ে বিজয় দিবস রাঙালেন মিরাজরা।
মাঠের লড়াইয়ে শান্তর অপরাজেয় দল খুব বেশি সুবিধা করতে না পারলেও খেলা শুরুর আগে কথার লড়াই ঠিকই জমিয়ে তুলেছিল। মিরাজদের অদম্য দলকে উদ্দেশ্য করে মজা করেই বলেন, ‘একদম শোয়াই ফেলব।’ যদিও হুমকির আড়ালে প্রীতি ম্যাচের আবহ ফুটিয়ে তোলাই ছিল তার উদ্দেশ্য। এছাড়া মিরাজের দলকে ‘কমিটির টিম’ বলেও টিপ্পনী করেছেন শান্ত। মিরাজও অবশ্য ছেড়ে কথা বলেননি শান্তকে। জানিয়ে রেখেছিলেন মাঠেই জবাব দেবেন তারা।
অবশ্য জবাব দেয়াতে এগিয়ে ছিল অদম্যই। যদিও রান তাড়ায় নেমে হাবিবুর রহমান সোহান ফিরেছেন শুরুতেই। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমও সুবিধা করতে পারেননি, যদিও নাইমের ব্যাটে লড়াই চালিয়ে যায় অদম্য। তাওহিদ হৃদয়কে একপ্রান্তে রেখে মাঠ জুড়ে শট খেলেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ২৭ বলে তুলে নিয়েছেন ফিফটি। রিপন মন্ডলের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১০ চার ও ৩ ছক্কায় তার ব্যাট থেকে এসেছে ম্যাচের সর্বোচ্চ ৭৭ রানের ইনিংস। হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসে ১৭ বলে ২৫।
২ ছক্কায় ১১ বলে ১৮ রান করে ফিরেছেন আফিফ হোসেন। মাঝে অঙ্কন, আকবর ইনিংস বড় করতে না পারায় ম্যাচের দৈর্ঘ্য গড়ায় শেষ ওভারে। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক মিরাজের ১০ বলে ১৪* রানের ইনিংসের সাথে সাইফউদ্দিনের মারা চারে জয় নিশ্চিত হয় অদম্যর। চার ওভার বল করে ২৮ রানে ৩ উইকেট নেন রিপন।
টসে হেরে ব্যাট করতে নামা অপরাজেয় শুরুতেই চাপে পড়ে শরীফুলের দারুণ সব ইনসুইংগারের। নতুন বল হাতে এই বাঁহাতি হয়ে উঠেছিলেন তার দলের মতোই অদম্য। ইমন ফিরেছেন তার করা প্রথম ওভারেই। আউট সুইংগারে স্কয়ার কাট খেলে উইকেটকিপার অঙ্কনের হাতে ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
অবশ্য শুরুতে ধাক্কা খেলেও আরেক ওপেনার জিশান আলমের পাল্টা আক্রমণে চাপ সামলে ওঠে অপরাজেয়। দলীয় প্রথম ৫০ রানের ৪৪-ই এসেছে তার ব্যাট থেকে। সাইফউদ্দিনের বলে অঙ্কনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ২২ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় মারকুটে এই ইনিংস খেলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। অন্যপ্রান্তে অধিনায়ক শান্ত খেলছিলেন রয়েসয়ে। এরপর ব্যাটিংয়ে এসে উইকেটে টিকতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুন। ৭ বলে ৬ রান করে ফেরেন তিনি।
৫৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর কেউই আর কার্যকরী ইনিংস খেলতে পারেননি। জাকের আলী শুরুটা আগ্রাসী করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৩ বলে ২ ছক্কা ও ১ চারে ২৩ রান করেন তিনি। আব্দুল গফফার সাকলাইন করেন ৯ বলে ১৭ রান। অদম্য একাদশের হয়ে সমান ৩টি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।


