অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত ‘কেয়ারটেকার’ আদলে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারই কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন। কারণ, নির্বাচনের আগে আর কোনো নতুন কেয়ারটেকার সরকার আসবে না।’
বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির বৈঠকের প্রসঙ্গ টানেন।
আমীর খসরু বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে অতিসত্বর কেয়ারটেকার সরকারের ভূমিকায় যেতে হবে। কারণ, কেয়ারটেকার অবস্থানে গেলে সরকার পুরোপুরি নিরপেক্ষ থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের ভেতরে ও বাইরে এখনো এমন কিছু লোক রয়েছেন, যাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তারা সরকারের অবস্থানে থেকে কেয়ারটেকার সরকারের ভূমিকা পালন করতে পারবেন না।’
আমীর খসরু বলেন, ‘সংবিধানে কেয়ারটেকার সরকারের চরিত্র স্পষ্টভাবে বলা আছে। তাই এখন থেকেই সরকারের সব কর্মকাণ্ডে সেই বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হওয়া দরকার। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সময় যাতে প্রশ্ন না ওঠে, সে জন্য তাদের দৈনন্দিন কাজ সীমিত রাখা উচিত।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা চাইলে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে পারতাম, কিন্তু দায়িত্বশীল দল হিসেবে তা করিনি। কারণ, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের কাছ থেকে ম্যান্ডেট নিতে হবে। প্রতিটি দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার আছে। কিন্তু রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ঠিক নয়।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে বিদায় করা হয়েছে, এখন রাস্তায় নয়, জনগণের কাছে যেতে হবে। সব দাবি-দাওয়া ম্যানিফেস্টোতে তুলে ধরে জনগণের ম্যান্ডেট নিতে হবে। রাস্তায় জোর করে কিছু আদায় করতে গেলে তা গণতন্ত্রবিরোধী আচরণ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই সরকারের শান্তিপূর্ণ পালাবদল হোক। মুহাম্মদ ইউনূস সাহেবের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে, উনার সম্মানের সঙ্গে বিদায় হওয়া উচিত। কিন্তু কিছু লোকের কার্যকলাপ তা ব্যাহত করতে পারে।
‘তাই আমরা বলেছি, অন্তর্বর্তী সরকার পুরোপুরি কেয়ারটেকার মুডে চলে যাক। যাদের নিয়ে বিতর্ক আছে তারা যেন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান,’ যোগ করেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান, প্রয়াত মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে রিটা রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ হোসেন আলমগীর প্রমুখ।


