অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মালিকের মেয়েকে ‘হত্যা’

অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মালিকের মেয়েকে ‘হত্যা’
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

ঢাকার বনশ্রী এলাকায় হোটেল কর্মচারীর হাতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় ‘হত্যাকারী’কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

সোমবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক ফয়েজুল আরেফিন এ তথ্য জানান।

রোববার সকালে বাগেরহাটে র‌্যাবের এক যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. মিলন মল্লিক। তিনি বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার মান্দা বাসখালী এলাকার বাসিন্দা।

এর আগে, শনিবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে দক্ষিণ বনশ্রীর নিজ বাসায় ফাতেমা আক্তার লিলিকে (১৭) গলাকেটে হত্যা করা হয়।

লিলি বাবা-মায়ের সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন। ঘটনার সময় তার বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। বাসায় তার আরেক বোন থাকলেও তিনি তখন বাইরে ছিলেন।

নিহত লিলি আল রাজী উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবার নাম সজিব তালুকদার। তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কালাউদ।

আরও পড়ুন

র‌্যাব জানিয়েছে, নিহতের বাবার একটি হোটেল রয়েছে। ওই হোটেলের এক কর্মচারী তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। এতে সাড়া না দেওয়া ও এর প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ফয়েজুল আরেফিন বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে র‌্যাব তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১০ জানুয়ারি দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন ভুক্তভোগীর বাসায় প্রবেশ করেন এবং ১টা ৪১ মিনিটে তার বড় বোন শোভা আক্তারের সঙ্গে বের হন। পরে, বড় বোন জিমে গেলে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে মিলন একা আবার বাসায় প্রবেশ করেন এবং প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান শেষে ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে বের হয়ে যান।

প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, ঘটনার পর মিলন বাগেরহাটে পালিয়ে যান। পরে র‌্যাব-৩ ও র‌্যাব-৬-এর যৌথ দল বাগেরহাট সদর থানার সিংগা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভুক্তভোগীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতে খাবার পরিবেশনের সময় আবারও এমন প্রস্তাব দিলে ভুক্তভোগী তাকে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি আরও বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মিলন একটি নাইলনের রশি নিয়ে ভুক্তভোগীর বাসায় যান। ভুক্তভোগী পুনরায় অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হলে তিনি রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ধরেন। চিৎকার শুরু করলে লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় তিনি রান্নাঘরের ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন তাকে। এরপর বাসা তল্লাশি করে কিছু টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।

গ্রেপ্তারের সময় মিলনের পরনে থাকা কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও নাইলনের রশি উদ্ধার করে করে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সহযোগী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad