মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরের প্রবর্তক মোড় এলাকায় আবারও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোমর সমান পানিতে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
শনিবার বৃষ্টির পর সরেজমিনে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি যেন এক অস্থায়ী খালে পরিণত হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে ব্যক্তিগত যানবাহনগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়ে। রিকশাগুলো অর্ধেক পানিতে ডুবে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেককে ডুবে যাওয়া মোটরসাইকেল ঠেলে পানি পার হতে দেখা গেছে।
এলাকাটিতে বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি ছিল চরমে। এক ব্যক্তি অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে আটকে পড়ে বাধ্য হয়ে রিকশার আশ্রয় নেন।
এক নারী জানান, চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকা সত্ত্বেও পানির কারণে তিনি হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে ফিরে গেছেন।
জলাবদ্ধতা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে দাবি করেছিলেন, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নেই এবং ভারী বৃষ্টিতে কেবল ‘সামান্য জলজট’ হয়।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতি এই বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, ‘কিছুদিন আগে উনি বললেন চট্টগ্রাম পানিতে ভাসছে না। এখন এগুলো কি চোখে দেখে না? এখানে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উঠে যায়।’
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৬ সালে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১৯ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক দফায় সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ ২০২৬ সাল নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দীর্ঘসূত্রতা ও সমন্বয়হীনতায় প্রকল্পের সুফল এখনো অধরা।
বিশ্লেষকদের মতে, খাল-নালা দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি দৃশ্যমান না হলে এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


