বিএনপির কর্মী মকবুল হত্যার অভিযোগে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক আফজাল নাছেরকে ফের চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
পল্টন মডেল থানার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।
বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন আফজাল নাছেরের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। এ নিয়ে তৃতীয় দফায় তার রিমান্ড চাইল পুলিশ।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান জানান, গত রোববার থেকে অভিযুক্ত সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা একই মামলায় তিনদিনের রিমান্ডে ছিলেন।
এর আগে, গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহতের মামলায় তার ছয়দিন রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
এদিকে বুধবার রিমান্ডের যুক্তি তুলে ধরে শুনানিতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, তিনি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সহযোগী ও সুবিধাভোগী ছিলেন। এ মামলায় তদন্তের স্বার্থে তার কাছে থেকে আরও তথ্য বের করার জন্য চারদিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
আফজাল নাছেরের পক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার শাসনামলে একটা পুরস্কার পাওয়া ছাড়া আর কোনো সুবিধা নেননি আফজাল নাছের। নাম ছাড়া এ মামলায় তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই। এরইমধ্যে তার তিনদিন রিমান্ড হয়েছে। যদি আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন হয় তাহলে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।’
মামলার নথিতে বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর একদফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। ৭ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ভবনে ভাঙচুর চালায়। কার্যালয়ের পাশে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায়। এতে মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।


