পিএসজি থেকে ব্র্যাডলি বারকোলাকে দলে নিতে সর্বোচ্চ ১২৩ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে পৌঁছেছে লিভারপুল।
ফরাসি ফরোয়ার্ডটির জন্য শুরুতে ১৪৫ মিলিয়ন পাউন্ড চেয়েছিল পিএসজি। শেষ পর্যন্ত কম দামেই সমঝোতায় পৌঁছেছে দুই ক্লাব।
বারকোলাকে নিতে লিভারপুল ১০৬ মিলিয়ন পাউন্ড দেবে। পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাস হিসেবে আরও ১৭ মিলিয়ন পাউন্ড পেতে পারে পিএসজি।
এই সপ্তাহের শেষ দিকে বারকোলার মেডিকেল হওয়ার কথা। এরপর অ্যানফিল্ডে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে সই করবেন ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
বারকোলা মূলত বাঁ প্রান্তে খেলেন। ডান পায়ের এই খেলোয়াড় ডান প্রান্ত বা মাঝেও খেলতে পারেন।
তার আগমন লিভারপুলে কোডি গাকপোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন বাড়াতে পারে। গাকপোকে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার ও ম্যানচেস্টার সিটি।
ডান প্রান্তের খেলোয়াড়ও খুঁজছে লিভারপুল। ব্রাইটনের ইয়ানকুবা মিনতেহ ও ক্রিস্টাল প্যালেসের ইসমাইলা সারের দিকে নজর রয়েছে তাদের।
আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে বারকোলাকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বানিয়েছিল লিভারপুল। গত দুই গ্রীষ্মে লুইস দিয়াজ ও মোহাম্মদ সালাহকে হারিয়েছে ক্লাবটি।
চলতি দলবদলে ইয়ান দিয়োমান্দে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বারকোলাকে অগ্রাধিকার দেয় লিভারপুল।
২০২৩ সালে ৩৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ডে লিঁও থেকে পিএসজিতে যোগ দেন বারকোলা।
প্যারিসে সফল সময় কাটিয়েছেন তিনি। জিতেছেন তিনটি লিগ ওয়ান, দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি ফরাসি কাপ, একটি উয়েফা সুপার কাপ ও একটি ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ।
চলতি গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে তিন গোল করেছেন বারকোলা।
একাধিক আক্রমণভাগের পজিশনে খেলার সক্ষমতা লিভারপুলকে বাড়তি বিকল্প দেবে। হুগো একিতিকে অ্যাকিলিস চোট থেকে ফেরার সময় আলেক্সান্ডার ইসাকের বিকল্প হিসেবেও খেলতে পারেন তিনি।
ইসাক ও ফ্লোরিয়ান ভির্টজ সেরা ফর্মে ফিরলে বারকোলার আগমন লিভারপুলের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
এদিকে শনিবার নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচের আগে গাকপোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন লিভারপুল কোচ আন্দোনি ইরাওলা।
গাকপোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না’ বলে জানান তিনি। তবে গাকপোকে রাখতে চান বলেও স্পষ্ট করেন।
ইরাওলা বলেন, ‘বিশ্বকাপ ও ছুটি শেষে ফেরার পর থেকে গাকপো খুব ভালো করছে। তার মনোভাবও খুব ভালো। আমি আশা করি, সে এই পর্যায়ে থাকবে। কারণ আমাদের ম্যাচগুলোতে সে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
বারকোলাকে বিক্রি করে বড় অঙ্কের লাভ করতে পারে পিএসজি। তিন বছর আগে প্রায় ৩৮ মিলিয়ন পাউন্ডে তাকে দলে নিয়েছিল ক্লাবটি। সব বোনাস পেলে এবার তিন গুণের বেশি অর্থ পেতে পারে তারা।
পিএসজির সঙ্গে বারকোলার চুক্তির মেয়াদ আর দুই বছর। নতুন চুক্তিতে সই করার আগ্রহও দেখাননি তিনি।
গত মৌসুমে পিএসজির বড় ম্যাচগুলোতে উইংয়ের জায়গার লড়াইয়ে দেজিরে দুয়ে ও খভিচা কাভারাতস্কেলিয়ার পেছনে ছিলেন বারকোলা।
চলতি গ্রীষ্মে ম্যাগনেস আকলিউশ ও মিকা গডটসকে দলে নিয়ে উইং আরও শক্তিশালী করেছে পিএসজি।
গ্রীষ্মের শুরুতে পিএসজির ১৪৫ মিলিয়ন পাউন্ডের চাহিদা পূরণে রাজি হয়নি লিভারপুল। শেষ পর্যন্ত কম দামেই সমঝোতায় পৌঁছেছে দুই ক্লাব। ইউরোপের অন্যতম প্রতিভাবান তরুণ ফরোয়ার্ডকে এবার অ্যানফিল্ডে পাওয়ার অপেক্ষায় লিভারপুল।


