দেশে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবস্থা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজন এবং নিশ্চিতভাবে হাম রোগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১৩৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৬৯ জন।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে সন্দেহজনক হামজনিত কারণে ৫১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামের কারণে মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে ৯১ জনের। এই আড়াই মাসে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৭০৮ জনে। নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগী হিসেবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে ৯ হাজার ২৬০ জনকে।
এ সময় সন্দেহজনক হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৬১ হাজার ১৯৪ জন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৪৩ জন রোগী।
বিভাগভিত্তিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের অঞ্চলে সংক্রমণের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৮৫ জন সন্দেহজনক এবং ৫৪ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ঢাকায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৫০৮ জনে, যার মধ্যে সন্দেহজনক হামে ২১০ জন এবং নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ৫৫ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের স্থান চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক আক্রান্ত ২৩০ জন এবং নিশ্চিত রোগী চারজন শনাক্ত হয়েছেন। এ বিভাগে মোট আক্রান্ত ১২ হাজার ৪৫৪ জন এবং নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০ জন।
অন্য বিভাগের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ১৫৮ জন সন্দেহজনক ও ছয়জন নিশ্চিত আক্রান্ত পাওয়া গেছে, যেখানে সামগ্রিকভাবে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬০ জনে। রাজশাহী বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক আক্রান্ত ৭৩ জন এবং নিশ্চিত আক্রান্ত চারজন। মোট আক্রান্ত ৬ হাজার ৬৮১ জন ও নিশ্চিত হামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক আক্রান্ত ৬১ জন এবং একজনের সন্দেহজনক মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এ বিভাগে মোট আক্রান্ত ৩ হাজার ৮১০ জন এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু তিনজন। ময়মনসিংহ বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক আক্রান্ত ৩৮ জন, নিশ্চিত আক্রান্ত একজন এবং সন্দেহজনক মৃত্যু হয়েছে একজনের। খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক আক্রান্ত ৬৮ জন। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ৫৭৩ জন হলেও সেখানে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক আক্রান্ত ২৩ জন এবং সন্দেহজনক হামে একজনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই অ্যান্ড সার্ভিল্যান্সের (ডিএইচআইএস২) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৫৮ হাজার ২১৮ জন শিশুকে এই টিকা দেওয়া হয়েছে, যা সার্বিক কাভারেজের প্রায় ১০২ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক টিকাদানে সিলেট ছাড়া বাকি সব বিভাগে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কাভারেজ অর্জিত হয়েছে। সিলেট বিভাগে লক্ষ্যমাত্রা ১৩ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৬ জনের বিপরীতে ১৩ লাখ ১৬ হাজার ২ জনকে (৯৯ শতাংশ) টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও রংপুরে সর্বোচ্চ ১০৩ শতাংশ এবং বরিশাল ও খুলনায় ১০১ শতাংশ ও ময়মনসিংহে ১০২ শতাংশ কাভারেজ অর্জিত হয়েছে।
একই সঙ্গে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন এলাকাতেও টিকাদান কার্যক্রম অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সিটি করপোরেশনগুলোতে মোট ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জন শিশুর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২০ লাখ ২২ হাজার ২৫ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যার সার্বিক কাভারেজ প্রায় ১০৬ শতাংশ।
সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সর্বোচ্চ ১১৩ শতাংশ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১০ শতাংশ কাভারেজ অর্জিত হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ১০৯ শতাংশ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ১০৭ শতাংশ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ১০৫ শতাংশ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১০৩ শতাংশ কাভারেজ রেকর্ড করা হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনে সর্বনিম্ন ৯৯ শতাংশ এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে ১০০ শতাংশ কাভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।


