মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল-আসাদসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল-আসাদসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

মঙ্গলবার দেওয়া এ রায়ে তাদের অনুপস্থিতিতে দণ্ড দেওয়া হয়। সিরিয়ার ১৪ বছরের সংঘাতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন।

দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালতের এ রায় আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের অবসানের ২০ মাস পর এসেছে। বাশার আল-আসাদ বা তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম দণ্ডাদেশ।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত শুনানিতে বিচারক ফাখারেদ্দিন আল-আরিয়ান বলেন, ‘বাশার আসাদ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো ব্যবহার করেছেন।’

একই মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন আসাদের মামাতো ভাই আতেফ নাজিব। দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ওই দমন-পীড়ন থেকেই বিদ্রোহ ও পরে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কারাগারের পোশাক পরে খাঁচার ভেতরে দাঁড়িয়ে রায় শোনেন নাজিব। রায় ঘোষণার সময় দামেস্কের কেন্দ্রীয় আদালতের বাইরে মানুষের ভিড় জমে।

আরও পড়ুন

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সরকার পতনের পর বাশার ও মাহের রাশিয়ায় পালিয়ে যান। পরে তারা রাজনৈতিক আশ্রয় পান। সিরিয়ার নতুন শাসকরা রাশিয়ার কাছে দুই ভাইকে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে।

২০১১ সালের এপ্রিলে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞায় পড়েন নাজিব। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিচারের মুখোমুখি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম শীর্ষস্থানীয়।

নাজিব সিরীয় সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। ২০১১ সালে তিনি দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান ছিলেন।

সে সময় দারার একটি স্কুলের দেয়ালে সরকারবিরোধী গ্রাফিতি লেখার অভিযোগে এক ডজনের বেশি কিশোরকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনা আসাদ সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটায়।

সরকারি বাহিনী কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমন করে। পরে তা ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। বিদ্রোহীদের আকস্মিক অভিযানে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হলে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে।

মাহের আল-আসাদ সিরীয় সেনাবাহিনীর চতুর্থ সাঁজোয়া ডিভিশনের সাবেক কমান্ডার। সিরিয়ার বিরোধী কর্মীদের অভিযোগ, এই ডিভিশন হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারে জড়িত ছিল। ডিভিশনটির নিজস্ব আটককেন্দ্রও ছিল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর