চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় চাঁদার দাবিতে দুর্বৃত্তরা এক প্রবাসীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করেছে। দুর্বৃত্তরা বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার পর ভুক্তভোগী পরিবার নম্বরটি ব্লক করে দিলে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে হামজারবাগ এলাকার হাজী মোহাম্মদ ইউসুফের মালিকানাধীন রুনা টাওয়ারে দুর্বৃত্তরা গুলি করে। বিদ্যুৎহীনতার সুযোগ নিয়ে দুই যুবক এই হামলা চালায়।
হামলাকারীরা প্রথমে গেট বন্ধ করার নির্দেশ দেয় এবং প্রহরীকে অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেয়। প্রহরী ভয়ে নিজের রুমে ঢুকে গেলে দুর্বৃত্তরা গেট লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় নিরাপত্তাপ্রহরী হামলাকারীদের চেহারা স্পষ্টভাবে দেখতে পারেননি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কিছুটা দূরে তাদের কোনো গাড়ি বা মোটরসাইকেল রাখা ছিল।
ভবনের মালিক হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর সৌদি আরবে কাটিয়ে বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছেন। তার বড় ছেলে মোহাম্মদ শওকত দুবাইয়ে ব্যবসা করেন এবং বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন।
ইউসুফ আরও জানান, সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভয়েস রেকর্ড পাঠানো হয়, যেখানে কাতার থেকে কল করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ভয়েস রেকর্ডে তাদের দেশে-বিদেশে ব্যবসা ও ভবন থাকার কথা উল্লেখ করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে টাকা তাদের এক ‘ছোট ভাইয়ের’ হাতে পৌঁছে দিতে বলা হয়। ইউসুফের পরামর্শে তার ছেলে কোনো উত্তর না দিয়ে নম্বরটি ব্লক করে দেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতে এই হামলা চালানো হয়।
উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইউসুফ কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজের শ্বশুর। আজিজ গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) হাসান মোস্তফা স্বপন জানান, পুলিশ ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। প্রাথমিকভাবে এটি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে হুন্ডি ব্যবসা সংক্রান্ত কোনো বিরোধের জেরে দেশে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তারা প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখনও থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।


