সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. নুরুল চৌধুরী (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা-রমনা বিভাগ (ডিবি)।
মঙ্গলবার ভোরে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের ভূইয়াবাড়ি বাঁশতলা সড়কের সানডে-সোসাইটি আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের পর অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় নুরুলের কাছ থেকে দুটি ওয়াকিটকি, দুটি ওয়াকিটকির চার্জার, একটি ভুয়া পাসপোর্ট, সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয়ে একটি ভুয়া আইডি কার্ড, র্যাবের কর্নেল পদমর্যাদার ডেপুটি ডিরেক্টর পরিচয়ে একটি ভুয়া আইডি কার্ড, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ধরনের ১০টি পোশাক, চিকিৎসা বই, বিভিন্ন ফর্ম ও প্যাড উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া সেনাবাহিনীর মেজর ও পুলিশ সুপার পরিচয়যুক্ত পোশাক পরা পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও চাকরির আবেদন ফরমও উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নুরুল চৌধুরী সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের প্রতারণা করে আসছিলেন।
তিনি কখনো ‘মেজর আল মামুন’, কখনো ‘কর্নেল নাজিম’ এবং কখনো ‘মেজর তানভীর’ পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক, রাঁধুনি, পিয়ন ও বাবুর্চি পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন।
চাকরিপ্রত্যাশী বেকার যুবক, রিকশাচালক, শ্রমিক ও দিনমজুরসহ নিম্নআয়ের মানুষ ছিল চক্রটির অন্যতম টার্গেট। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফরম, পরিচয়পত্র, সেনাবাহিনীর পোশাক এবং বিভিন্ন বাহিনীর পোশাক পরা ছবি ব্যবহার করত।
এ ছাড়া কখনো এসবি-ডিবির সদস্য এবং কখনো ‘পুলিশ সুপার তারিকুর রহমান’ পরিচয় ব্যবহার করেও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করার তথ্য পেয়েছে ডিবি।
পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে নুরুলের বিরুদ্ধে।
ডিবি আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত নুরুল চৌধুরীর বিরুদ্ধে শাহআলী থানায় প্রতারণা সংক্রান্ত একটি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন, ভুয়া পরিচয়পত্র, নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র, পোশাক ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


