পাল্টাপাল্টি অভিযোগে শেষ হলো জাকসুর ভোট, ফলের অপেক্ষা

পাল্টাপাল্টি অভিযোগে শেষ হলো জাকসুর ভোট, ফলের অপেক্ষা
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে জাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস
Advertisement
Advertisement

অনিয়ম ও জাল ভোট দেওয়াসহ পাল্টাপাল্টি নানা অভিযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। অবশ্য নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ছিল না ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। অনিয়মের অভিযোগে ভোট শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টা আগেই তা বর্জন করে ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন ছাত্রদল প্যানেলের জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী।

কাছাকাছি সময়ে বিএনপিপন্থী তিন শিক্ষকও নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আরিফ উল্লাহ আদিবের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই ছাত্রদল ভোট বর্জন করেছে।

জাকসু নির্বাচনে ভোট দিতে আসা এক শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস
জাকসু নির্বাচনে ভোট দিতে আসা এক শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস

সংবাদ সম্মেলনে তানজিলা হোসাইন বৈশাখী বলেন, ‘আমাদের ভিপি প্রার্থীকে তাজউদ্দিন হলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। জামায়াত নেতার প্রতিষ্ঠান থেকে ভোট গণনার যন্ত্রপাতি (ওএমআর) কেনা হয়েছে। অমোচনীয় কালি উঠে যাচ্ছে। ফলে এটি একটি পাতানো নির্বাচন। তাজ উদ্দিন হলে ভোটার লিস্টে কারো ছবি নেই। যার ফলে দুই ঘণ্টা ওই হলে ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।’

প্রতিবাদ করায় জামায়াত নেতার প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা বাতিল করা হলেও তার দেওয়া ব্যালট দিয়েই ভোটগ্রহণ হয়েছে বলে অভিযোগ বৈশাখীর।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ‘জাহানারা ইমাম হলে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর গায়ে হাত তোলা হয়। সেখানে মব সৃষ্টি করা হয়। সব হলে আমাদের পোলিং এজেন্টদের থাকতে দেওয়া হয়নি। মেয়েদের হলগুলোতে আইডি কার্ড চেঞ্জ করে ছাত্রশিবিরের লোকজন বারবার ভোট দিয়েছেন। জাকসুতে কোনোভাবে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ হচ্ছে না। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হচ্ছে। এটা পরিপূর্ণ কারচুপির নির্বাচন। প্রহসনের নির্বাচন। এসবের প্রতিবাদের আমরা ভোট বর্জনে বাধ্য হচ্ছি।’

জাকসু নির্বাচনের ভোট বুথ। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস

অন্যদিকে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আরিফ উল্লাহ আদিবও।

সকালে তিনি বলেন, ‘সালাম-বরকত হলে ১০১টি অতিরিক্ত ব্যালট পাঠানো হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যালটের যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি প্রশাসন। সিদ্ধান্ত হয়েছিল কোনো হলে অতিরিক্ত ব্যালট যাবে না। অথচ হলে অতিরিক্ত ব্যালট পাঠানো হয়েছে।’

ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপার সরবরাহে ছাত্রদল নেতাদের সম্পৃক্ততা ছিল এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আনাগোনা লক্ষ্য করছি। আমরা বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, কিন্তু কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ডোপ টেস্টের ফলও প্রকাশ করেনি প্রশাসন, এই ফল দ্রুত প্রকাশ করতে হবে।’

বেশ উৎসাহের মধ্যেই ভোট দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস
বেশ উৎসাহের মধ্যেই ভোট দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: অনিক রহমান/টাইমস

সুষ্ঠু ভোটের দাবি জানিয়ে আদিব সকালে বলেন, ‘যে অসঙ্গতিগুলো হচ্ছে তা দ্রুত দূর করতে হবে। সুষ্ঠু ভোট হলে পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে জয়লাভ করবে আমাদের প্যানেল। ভোট অবাধ হলে জয় বা পরাজয় যা-ই হোক আমরা মেনে নেব।’

জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ হাজার ৭৪৭ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে ২২৪টি বুথে ভোটগ্রহণ হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে ১২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর