জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী অভিযোগ করেছেন ‘নির্বাচনটি পাতানো হয়েছে’।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম, নির্বাচনটি হবে পাতানো। তাজউদ্দীন হলের ভোটার তালিকায় ছবি নেই, ফলে দুই ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। ২১ নম্বর হলে মব সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং এর পেছনে ছিল ছাত্রশিবির। জাহানারা ইমাম হলে মব সৃষ্টি করা হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার কিছু আগে মওলানা ভাসানী হলের গেস্ট রুমে সংবাদ সম্মেলন করে এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বৈশাখী। তিনি বলেন, ‘মেয়েদের হলে আইডি কার্ড পরিবর্তন করে একই মেয়ে একাধিকবার ভোট দিয়েছে, অথচ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
এ সময় প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী মো. শেখ সাদী হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) প্রার্থী মো. সাজ্জাদউল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বরাবর একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন, যেখানে তারা ৯টি অনিয়মের কথা উল্লেখ করেছেন:
১. সময়মতো পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেয়া। ২. প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করতে না দেয়া। ৩. নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে শিবির সমর্থিত প্যানেল ভোটারদের হাতে লিফলেট বিতরণ করেছে। ৪. বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে জাল ভোট প্রদান ও ভিপি প্রার্থীকে হেনস্থা করা হয়েছে। ৫. কিছু কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় ভোট কারচুপি হয়েছে। ৬. কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের তুলনায় বুথের সংখ্যা কম ছিল, ফলে ভোগান্তি হয়েছে। ৭. অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে অমোছনীয় কালি ব্যবহার না করায় একই ব্যক্তি একাধিক ভোট প্রদান করেছে। ৮. ভোটার তালিকায় প্রার্থীদের ছবি না থাকায় ভোট কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। ৯. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংসদে তিন জন কার্যকরী সদস্যের ভোট হওয়ার কথা থাকলেও ব্যালটে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ ছিল।

এর আগে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাওলানা ভাসানী হলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান অভিযোগ করেন, “ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নির্বাচন কমিশনার জামায়াতে ইসলামীর এক কোম্পানি থেকে ব্যালট পেপার ও ওএমআর মেশিন সরবরাহ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রশিবিরকে বিজয়ী করার জন্য ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে, এবং নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে ম্যানুয়ালি ভোট গণনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
শেখ সাদী বলেন, ‘নতুন ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের দাবি জানালেও নির্বাচন কমিশন জামায়াতের কোম্পানির ব্যালট দিয়েই ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা আশা করি, তবে এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।’
এদিকে, ছাত্রদল প্যানেল অভিযোগ করেছে, ‘জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ক্যাম্পাসের আশপাশে অবস্থান করছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।’
এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৪৭ জন এবং মোট ১৭৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।


