জাহাজভাঙা শ্রমিকদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিকারব্যবস্থা গঠনের দাবি

জাহাজভাঙা শ্রমিকদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিকারব্যবস্থা গঠনের দাবি
‘জাহাজ ভাঙার মানবিক মূল্য’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভা। ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

জাহাজভাঙা শিল্পে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রতিকারব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ।

সোমবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘জাহাজ ভাঙার মানবিক মূল্য: বাংলাদেশের জাহাজভাঙা শিল্পে জবাবদিহি, প্রতিকার ও পুনরাবৃত্তি রোধ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ দাবি জানান।

এস এন করপোরেশনের জাহাজভাঙা কারখানায় এমটি সুবর্ণ স্বরাজ্য জাহাজে সংঘটিত বিস্ফোরণের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সকল প্রাণের নিরাপত্তা (সপ্রান)’ এবং ‘অল ভিক্টিমস অ্যান্ড ভেটেরান্স নেটওয়ার্ক (এভিএন)’ যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।

আলোচনায় সপ্রানের গবেষক অপসরা ইসলাম তন্দ্রা বলেন, শ্রমিকের মৃত্যু বা আহত হওয়ার ঘটনায় শুধু এককালীন অর্থ দেওয়া কার্যকর প্রতিকার হতে পারে না। পূর্ণাঙ্গ প্রতিকারের জন্য ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, ঘটনার সত্য উদঘাটন ও পুনরাবৃত্তি রোধের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

নিহত শ্রমিক হাবিবের স্ত্রী সাবিনা খাতুন বলেন, ‘একজন মানুষ মারা গেলে তার জীবনের মূল্য কি মাত্র সাত লাখ টাকা!’

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ জানান, দেশে আইন ও প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ ও সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিশন গঠন করা হলেও প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) সহকারী পরিচালক মো. তৈয়্যেবুর রহমান বলেন, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে শ্রমিকের আয়, বয়স, পরিবারের নির্ভরশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও আর্থিক প্রভাব বিবেচনা করতে হবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) সহকারী মানবাধিকার কর্মকর্তা সায়মা করিম শ্যানন বলেন, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং শিল্পটির কাঠামোগত সমস্যার প্রতিফলন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নীতি ও প্রচার সমন্বয়ক বারিশ হাসান চৌধুরী বলেন, পরিবেশবান্ধব সনদ থাকার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের ক্ষমতার অসমতা, মামলা করতে অনীহা ও আইনের দুর্বল প্রয়োগ ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বড় বাধা।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের আইনের শাসনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রোমানা শোয়াইগার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহজপ্রাপ্য আইনি সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সপ্রানের গবেষক জেবা সাজিদা সারাফ। এতে নিহত শ্রমিক বরকতের শাশুড়ি রোকেয়া বেগম, নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী শারমিন বেগম এবং নিহত খায়রুলের বাবা কামাল শেখ বক্তব্য দেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর