কুষ্টিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ইব্রাহিম ও আফরান নামের দুই শিশুর বয়স আট মাস এবং আইজা নামের আরেক শিশুর বয়স পাঁচ মাস।
হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জনমনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়। সে দৌলতপুর উপজেলার চঞ্চল হোসেনের ছেলে।
ওইদিন রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু আইজার মৃত্যু হয়। সে কুষ্টিয়া শহরের রেনউক মোড় এলাকার মমিনের মেয়ে।
এর আগে, শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে একই হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আফরানের মৃত্যু হয়। সে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের আল আমিনের ছেলে।

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হোসেন ইমাম তিন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে এরই মধ্যে এ রোগে আক্রান্তদের জন্য আলাদা ‘হাম কর্নার’ চালু করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেককে সাধারণ শিশু ওয়ার্ডেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, এতে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, জেলায় অন্তত তিন শতাধিকের বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, হামের টিকার স্বল্পতা, সচেতনতার ঘাটতি এবং বাইরের জেলা থেকে মানুষের আগমন সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
আক্রান্ত শিশুদের জন্য জেলার সব হাসপাতালে ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ চালু করা হয়েছে এবং টিকা পাওয়া মাত্র দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।


