ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে সমাহিত করা হবে।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের মুক্তিযোদ্ধা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন। পরে একই পোস্ট দেওয়া হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজেও।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে জুমা লিখেছেন, ‘শহীদ ওসমান হাদিকে বহনকারী গাড়ি বিমানবন্দর থেকে হিমাগারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। সেখানে মরদেহ রেখে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা শাহবাগে এসে অবস্থান নেবেন।’
তিনি লেখেন, ‘পরিবারের দাবির ভিত্তিতে শহীদ ওসমান হাদিকে কবি নজরুলের পাশে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বাদ জোহর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে আজকের পরিবর্তে আগামীকাল মিছিলসহ তাকে কেন্দ্রীয় মসজিদে আনা হবে।’
জানা গেছে, বর্তমানে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমাগারে রাখা হবে হাদির মরদেহ। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে জুমা বলেন, ‘ছাত্র-জনতাকে আজ ও আগামীকাল শৃঙ্খলার সঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে, যাতে কোনো গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে এবং কোনো ধরনের সহিংসতার সুযোগ না পায়।’
উল্লেখ্য, কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট মৃত্যুবরণের পর তাকে এখানে দাফন করা হয়। পরে তার কবরকে কেন্দ্র করে সমাধিসৌধ নির্মাণ করা হয়। স্থপতি মাজহারুল ইসলামের নকশায় নির্মিত এই সৌধ ২০০৯ সালে উদ্বোধন করা হয়। এ কমপ্লেক্সে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কবরও রয়েছে।
এদিকে শনিবার বেলা দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। এর আগে নামাজে জানাজা বেলা আড়াইটায় অনুষ্ঠিত হবার ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো।
জানাজায় অংশগ্রহণে আগ্রহীদের কোনো প্রকার ব্যাগ বা ভারী বস্তু বহন না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদির মৃত্যু হয়।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পাশের একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। তার মৃত্যুর পর শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ বহনকারী বিমানটি দেশে এসে পৌঁছায়।


