ইসলামের নামে যেকোনো উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস সুফিবাদী সুন্নি মুসলমানরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে বলে মন্তব্য করেছেন সাবির শাহ।
রোববার সকালে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুসের আলোচনা ও মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট, ঢাকা শাখার ব্যবস্থাপনায় এবং গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ, ঢাকার সহযোগিতায় এ জুলুস অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মুসলমান অংশ নেন।
জুলুসটি মোহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে শুরু হয়ে তাজমহল রোড, কৃষি মার্কেট, রিং রোড, শিয়া মসজিদ, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, সাত মসজিদ রোড, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক, মিরপুর রোড, আসাদ গেট ও কলেজ গেট হয়ে শ্যামলী ক্লাব মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল কলেমা ও ইসলামী বাণীসংবলিত বিভিন্ন রঙের ব্যানার ও পোস্টার। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হামদ, নাতে রাসুল ও গজল পরিবেশন করেন।
জুলুস শেষে শ্যামলী ক্লাব মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবির শাহ বলেন, ‘উগ্রবাদ, সন্ত্রাস, অবিচার ও অন্যায় থেকে মানবসমাজকে মুক্ত করার জন্য মহান আল্লাহ ইসলামকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদকে নিশ্চিহ্ন করে শান্তি প্রতিষ্ঠা রাসুলুল্লাহর আদর্শ।’ আল্লাহর মহান নিয়ামত লাভের জন্য আনন্দ প্রকাশ করা কোরআনের শিক্ষা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জশনে জুলুস শুধু উৎসব নয়, এটা নবীপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ মুহাম্মদ কাসিম শাহ ও সৈয়দ আকিব আহমদ শাহ।
মাহফিলে ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন আল-আযহারীসহ অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক।
বক্তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও দেশ-জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট ও গাউসিয়া কমিটি ঢাকার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


