বাংলাদেশের সব ধর্ম ও মতের মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
তিনি বলেছেন, বিভিন্ন মতের ওলামায়ে কেরাম ও অন্যান্য ধর্মের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে টুকটাক যে বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে, সেগুলো দূর হয়ে যাবে।
রোববার দুপুরে সচিবালয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের প্রথিতযশা বিভিন্ন মতের ওলামায়ে কেরামদের সহাবস্থান এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে। শুধু ইসলাম ধর্মের নেতারা নয়, অন্যান্য ধর্মের নেতা ও ধর্মীয় গুরুদের কাছেও তিনি যাবেন এবং কথা বলবেন।
তিনি বলেন, ‘সব ধর্ম ও মতের মানুষ যাতে নিজের জায়গা থেকে কথা বলতে পারে, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।’
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা তুলে ধরে শামীম কায়সার বলেন, এ দেশের অধিকাংশ মানুষই ধার্মিক। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মপ্রাণ মানুষের দেশ। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যদি নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থ অনুসরণ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ধারণ করতে পারে, তাহলে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও বৃদ্ধি পাবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন, বাংলাদেশে একটি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থাকা প্রয়োজন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ধর্মীয় মূল্যবোধকে অনেক বেশি সম্মান করতেন।’
শামীম কায়সার বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই বিএনপি এত বড় মহিরূহে পরিণত হয়েছে, মানুষের মনের মনিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছে।’
তাকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ করা নিয়ে হেফাজতে ইসলামের বিবৃতির বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দেন শামীম কায়সার।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে একটি দলকে মানুষ শতভাগ ভোট দেয় না, পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে। কোনো একটি অ্যাপয়নমেন্টকে শতভাগ মানুষ পছন্দ করবে, বিষয়টি এরকম নয়।’
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় কোনো বিষয় সরাসরি পরিষ্কার করা সম্ভব না হলে বা খণ্ডিত তথ্য ছড়িয়ে পড়লে একই বিষয় ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে। তবে যোগাযোগ ও কথাবার্তা বাড়লে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যোগাযোগ ও কথাবার্তা যত বেশি হবে, যদি কোথাও কোনো ভুল বোঝাবুঝি থাকে সেগুলো নিরসন হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি জানান, গত শনিবার তিনি জামিয়া মাদানিয়া বারিধারায় গিয়েছিলেন। সেখানে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশের অনেক শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে কথা বলেছেন।
শামীম কায়সার বলেন, ‘গতকাল আমি যাদের সঙ্গে বসেছি, তাদের কিছু প্রশ্ন ছিল। আমার বিশ্বাস, আমি তাদের সন্তুষ্ট করতে পেরেছি এবং উনারা আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন।’
মতবিনিময় সভায় ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আয়াতুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


