ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘জি’-এর শেষ ম্যাচে ইরানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে নকআউট নিশ্চিত করেছে মিসর। অন্যদিকে ইরানকে এখন অপেক্ষা করতে হবে-তারা সেরা তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউটে উঠতে পারছে কি না।
ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে ইরানের জন্য নেমে আসে চরম হতাশা। যোগ করা সময়ে শোজায়ে খলিলজাদেহ জয়সূচক গোল করেছেন বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করে দেন। সেই সিদ্ধান্তেই সরাসরি নকআউটে ওঠার সুযোগ হারায় ইরান।
গ্রুপে মিসর ও ইরান—দুই দলেরই পয়েন্ট হয় পাঁচ। তবে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষস্থান দখল করে বেলজিয়াম। গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় হয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে মিসর। নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া।
ইরান গ্রুপে তৃতীয় হলেও শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা এখনো বেশ উজ্জ্বল। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা তাদের ৯২ শতাংশ।
বল দখলে মিসর এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে বেশি কার্যকর ছিল ইরান। দলের হয়ে গোল করেন রামিন রেজাইয়ান। ম্যাচসেরাও নির্বাচিত হন তিনি। তবে শেষ মুহূর্তে ভিএআরের সিদ্ধান্তে হতাশ রেজাইয়ান পুরস্কারটি গ্রহণ করেন অনেকটা নিরুত্তাপভাবেই।
ম্যাচে মিসরও পেয়েছে দুশ্চিন্তার খবর। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ ৫৭তম মিনিটে মাঠ ছাড়েন। বেঞ্চে বসে তার পায়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর আগে ম্যাচের শুরুতেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার মোহাম্মদ আবদেলমোনেম।
এই ড্র মিসরের ফুটবল ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব অপরাজিত থেকে শেষ ৩২-এ উঠেছে তারা। পাশাপাশি টানা তিনটি বিশ্বকাপ ম্যাচে অপরাজিত থাকার কীর্তিও গড়েছে মিসর, যা দেশটির ইতিহাসে প্রথম।
শেষ বাঁশি বাজার পর ইরানের খেলোয়াড়দের অনেককেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। আর প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়ি একা বসে ছিলেন ডাগআউটে। এখন বাকি গ্রুপগুলোর ফলাফলের অপেক্ষায় থাকতে হবে তাদের—বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে কি না, তা জানার জন্য।


