এআইফোরবিটি গ্লোবাল সামিট: এআই-নেটিভ এন্টারপ্রাইজ ট্রান্সফরমেশনে গুরুত্ব

এআইফোরবিটি গ্লোবাল সামিট: এআই-নেটিভ এন্টারপ্রাইজ ট্রান্সফরমেশনে গুরুত্ব
ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

বৈশ্বিক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, ভিশনারি ও এন্টারপ্রাইজ ট্রান্সফরমেশন প্র্যাকটিশনারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সফলভাবে শেষ হয়েছে ‌‌’এআইফোরবিটি গ্লোবাল সামিট ২০২৬’ -এর প্রথম দিনের আয়োজন।

সম্পূর্ণ ভার্চুয়ালি আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ প্রিমিয়ার এক্সিকিউটিভ সামিটের প্রথম দিনে সাধারণ ‌এআই অ্যাডপশন থেকে আধুনিক এআই-নেটিভ ট্রান্সফরমেশনে উত্তরণ নিয়ে গভীর ও বিশ্লেষণমূলক আলোচনা হয়। এদিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন, লাইভ ডেমো ও রাউন্ড-টেবিল আলোচনায় এআইয়ের ভবিষ্যৎ, ইআরপি ট্রান্সফরমেশন ও এজেন্টিক এআই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এআইফোরবিটি গ্লোবালের সহপ্রতিষ্ঠাতা, সিইও ও এন্টারপ্রাইজ এআই ট্রান্সফরমেশন কোচ মাহমুদুল হাসান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। তিনি বর্তমান যুগে প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্কেলেবল ও এআইভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

উদ্বোধনের পর প্রথম দিনের অন্যতম বক্তা বিজনেস এআই ট্রান্সফরমেশন আর্কিটেক্ট, মেটারমরফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) সাদিক এম আলম এ খাতে তার ১৮ বছরের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এআইয়ের সহায়তায় ব্যবসার রূপান্তরের বিভিন্ন দিক সামনে আনেন।

এন্টারপ্রাইজ এজাইল কোচ ও ট্রান্সফরমেশন কনসালট্যান্ট মামুন মোরশেদ তার বক্তব্যে এন্টারপ্রাইজ এজাইলিটি, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অফিস (পিএমও) গভর্ন্যান্স ও ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এএলডিও গ্রুপ, গ্রামীণফোন, বিকাশ ও এয়ারটেলের মতো কোম্পানিগুলোতে কাজের অভিজ্ঞতা জানান তার আলোচনায়।

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলোচনায় যুক্ত হওয়া সারা করনেটের আলোচ্য বিষয় ছিল‌ ‘এআই স্ট্র্যাটেজি এবং রেসপনসিবল এআই গভর্ন্যান্স ফর এন্টারপ্রাইজেস’। তিনি ব্যাংকিং, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ঝুঁকি সংবেদনশীল পরিবেশে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে এআই গভর্ন্যান্স ও ট্রান্সফরমেশন রোডম্যাপে সহায়তা করা যায়, তা তুলে ধরেন।

‘সি-লেভেল থিংকিং অ্যাবাউট দ্য এআই-নেটিভ অর্গেনাইশন’ প্রতিপাদ্যে প্রথম দিনের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গোলটেবিল আলোচনা। এআইমুখী অভিযাত্রায় ব্যবসা ক্ষেত্রের নেতারা কীভাবে কৌশল, জনবল, কার্যক্রম, প্রযুক্তি ও পরিচালনার বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে ভাববেন, তা উঠে আসে গোলটেবিলে। এতে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রাজ্জাক, গ্রামীণফোনের চিফ বিজনেস অফিসার ও সোনালী ব্যাংক পিএলসির বোর্ড ডিরেক্টর আসিফ নাইমুর রশিদ, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন ও সাপ্লাই চেইন অ্যান্ড লজিস্টিকসের সাবেক সিইও মো. আবুল হোসেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ ও বিজনেস লিডার রফিকুল ইসলাম, কিউএসবিএলের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এবং বেসিস ফোরাম কোয়ান্টাম সেফের আহ্বায়ক মুজতবা সাত্তার অনন্ত, ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট, বিজনেস স্ট্র্যাটেজিস্ট ও এআইবিষয়ক বক্তা মার্ক অনুপম মল্লিক।

প্যানেল আলোচনার পর ট্রান্সফরমেটিভ লিডারশিপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন জন ম্যাক্সওয়েল সার্টিফায়েড কোচ ও ট্রেইনার এবং থ্যাংকসকার্বন বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর পিটার কে. ইউন। তার বক্তব্যে প্রযুক্তি, টেকসইত্ব, নেতৃত্ব ও কমিউনিটি উন্নয়ন নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে।

পিটারের বক্তব্যের পর সামিটের দুজন সহউপস্থাপক সাদিক এম আলম ও মাহমুদুল হাসান প্রথম দিনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সমাপনী বক্তব্যে তারা এন্টারপ্রাইজের ভবিষ্যৎ শুধু যে এআই টুলস ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় সেটি তুলে ধরেন। দুজনই প্রতিষ্ঠানগুলোকে এআই-নেটিভে রূপান্তরের বিষয়ে জোর তাগিদ দেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad