প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা-ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে শনিবার রাত ১২টায়। নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা আবার নদীতে স্বাভাবিক নিয়মে মাছ ধরতে পারবেন।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর থেকে ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
এবার আশ্বিনী পূর্ণিমার আগের চার দিন এবং অমাবস্যার পরের তিন দিনকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় বিশেষ অভিযান চলে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা, বিশেষ করে মৎস্যজীবীদের মতামত অনুযায়ী এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।
এই প্রজনন মৌসুমের পূর্ণিমা ও অমাবস্যা এই দুই সময়ই ডিম পাড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ সময়কে একীভূত করে ইলিশের সর্বোচ্চ প্রজনন নিশ্চিত করা হয়।
জেলা মৎস্য অফিস জানায়, লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ৩ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। সরকার মেঘনা নদীর এই ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করেছিল। ওইসব এলাকায় নিষেধাজ্ঞার সময় সব রকমের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদকরণ নিষিদ্ধ ছিল।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের নিষেধাজ্ঞার ফলে ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পেরেছিল। ফলে ৪৪ দশমিক ২৫ হাজার কোটি জাটকা বা রেণু ইলিশ সে সময় ইলিশ পরিবারে সংযুক্ত হয়েছিল। আর এসব ডিম থেকে উৎপন্ন রেণু বা পোনা (জাটকা) ভবিষ্যতে পরিপক্ব ইলিশে পরিণত হবে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার সময়ে পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ জানান জেলেরা। তবে তারা ইলিশের প্রজনন শেষে জালে বিপুল মাছ ধরা পড়ার বিষয়ে আশাবাদী।


