লালমনিরহাটে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাড়িঘর বিধ্বস্ত, কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি

লালমনিরহাটে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাড়িঘর বিধ্বস্ত, কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি
ঝড়ে ভেঙে যাওয়া একটি ঘর। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

লালমনিরহাটের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে এ ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়।

ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জেলায় পাঁচ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের অন্তত তিন শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি। হেলে পড়েছে কৃষকের ভুট্টা, তামাকসহ নানা ফসল।

শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, শিলাবৃষ্টিতে অনেক বাড়ির টিনের ঘরের চালা ফুটো হয়ে চালুনির মতো হয়ে গেছে। জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের চন্ডিমারী এলাকার সইদুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু বুঝে ওঠার আগেই তীব্র বাতাসে ঘর ভেঙে পড়লে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনোমতে বাইরে বের হয়ে আসি এবং অন্য আরেক ঘরে আশ্রয় নিই। পরে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। আমার বাড়ির তিনটি ঘরের চালই শিলায় ঝাঁঝরা হয়ে গেছে।’

শিলাবৃষ্টিতে ঝাঁঝরা হওয়া একটি ঘরের টিনের চালা। ছবি: টাইমস

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ভুট্টা এবং ৩০ হেক্টর জমির শাকসবজি ও তামাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। কৃষকদের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এই সরকারি হিসাবের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। শিলাবৃষ্টিতে তামাক পাতা ফুটো হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে এবং ফলন্ত ভুট্টার গাছগুলো মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

আরও পড়ুন

জেলার হাতীবান্ধার উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার সব ভুট্টা খেত মাটিতে শুয়ে গেছে।’ একই এলাকার কৃষক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘চার দোন (প্রায় এক একর) জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছিলাম। অধিকাংশ ভুট্টার গাছ হেলে মাটিতে পড়েছে। কি করব বুঝে উঠতে পারছি না।’

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহান জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ও তুষভাণ্ডারসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাঈখুল আরিফিন বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে আদিতমারী, হাতিবান্ধা উপজেলার কৃষকের প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ভুট্টা ও ৩০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুত তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনের কাজ চলছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad