মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তথ্যভিত্তিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পটি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করছে এবং বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।
শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে প্রকল্পের বিভিন্ন চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড নেটওয়ার্ক ফর লাইভস্টক ইনফরমেশন প্রতিষ্ঠার প্রাক-শর্ত নির্ধারণে একটি পরামর্শক সেবা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সভাপতিত্ব করেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন)।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, কর্মসূচিটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছে এবং আগামী ১০ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য এজিটি ইন্টারন্যাশনাল (ইতালি) তাদের স্থানীয় অংশীদার সোডেভ কনসাল্ট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের (বাংলাদেশ) সঙ্গে চুক্তি করেছে।
বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড নেটওয়ার্ক ফর লাইভস্টক ইনফরমেশন কর্মসূচির আওতায় প্রকল্প এলাকার ৮টি বিভাগের নির্বাচিত ১৬টি জেলার ১৬টি উপজেলার ৫০ হাজার ১৮টি গবাদিপ্রাণিসহ ৮ হাজার ১৫৩টি খামারকে একটি ডাটাবেস সিস্টেমে নিবন্ধন করা হয়েছে। এই ডাটাবেসে গবাদিপশুর প্রাথমিক তথ্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানিয়েছে, এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রায় ১০ বিলিয়ন গবাদিপশুর তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং সিটি করপোরেশন, মেট্রোসহ প্রকল্প এলাকার সব জেলা ও উপজেলাকে এর আওতায় আনা হয়েছে।
এ ছাড়া, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দুটি ‘জাতীয় প্রাণিসম্পদ বিমা নীতিমালা ২০২৫’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং দেশে এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ।
সরকারের ১৮০ দিনের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে কমপক্ষে ১ হাজার ৫০০টি গবাদিপশুকে বিমার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে এই কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ২ হাজার ৩২৫ ডেইরি গবাদিপশুকে বিমার আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৪ হাজার ৮০০ গবাদিপশু বিমার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


