নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় হামের লক্ষণ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি বাড়ছে। গত ১৫ দিনে অর্ধশতাধিক শিশু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সোমবার থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ২২ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শেষে আট শিশুকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ভর্তি থাকা সাত শিশুকে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত ও লক্ষণ থাকা শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে আগামী রোববার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে–এ খবর জানার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
হামের লক্ষণ নিয়ে গত ২৪ মার্চ মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মাছিমপুর বাড়ইপাড়া এলাকার রকির ছেলে আরিয়ান ইসলাম ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এর আগে, ১৯ মার্চ ঢাকার মহাখালী উদরাময় হাসপাতালে মারা যায় কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া এলাকার এক বছর বয়সী নুহাশ।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি থাকা সাত শিশু হলো মাহমুদাবাদ গ্রামের ফয়সালের মেয়ে ফাতিহা (২), পূবেরগাঁও গ্রামের সোহেল আহম্মদের ছেলে দিহান (১০), মঙ্গলখালী গ্রামের আল-আমিনের ছেলে মিনহা (৮), মাসাবো গ্রামের মামুন হাসানের ছেলে হাসিম (৪), পাড়াইন গ্রামের হাফিজুল ইসলামের মেয়ে হাফসা আক্তার (৮), চনপাড়া গ্রামের রাব্বির এক বছর বয়সী ছেলে রাইয়ান ইসলাম এবং রূপগঞ্জ গ্রামের দ্বীন ইসলামের ছেলে আযান (৪)।
উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাকসুদুল হাসান মতিন বলেন, ‘স্বাস্থ্য সহকারীরা প্রতিদিন নিজ নিজ এলাকায় হামের লক্ষণ থাকা শিশুদের শনাক্ত করে হাসপাতালে নিয়ে আসছেন এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করছেন।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আইভি ফেরদৌস বলেন, ‘হাম রোগীদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাম সংক্রামক হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখতে হবে এবং ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে।’
গত ১৭ মার্চ থেকে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ২০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে ২০টির মধ্যে ১৫ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান বলেন, ‘আক্রান্ত শিশুদের ৮০ শতাংশের বয়স নয় মাসের নিচে। তাদের টিকা নেওয়ার সময় এখনো হয়নি। বাকি শিশুদের মধ্যে ১০ শতাংশ এক ডোজ এবং ১০ শতাংশ দুই ডোজ টিকা পেয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, ‘জেলায় বর্তমানে ৭৫ হাজার ডোজ হাম টিকা মজুত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যায়ক্রমে এসব টিকা প্রয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রূপগঞ্জের ৪১টি কমিউনিটি ক্লিনিক, দুটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র সচল রাখা এবং রোগী পরিবহনে নৌ অ্যাম্বুলেন্স চালুর ব্যবস্থা করা হবে।’
অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


