রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা বৃহস্পতিবার তথ্যটি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি হাইকোর্টে অনুষ্ঠিত হবে।’
এর আগে ১৬ জুন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোহেল ও স্বপ্নার পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেয়।
১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আসামিরা জেল আপিল করলে ১৪ জুন তা শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট।
তার আগে ৯ জুন রামিসা হত্যায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের ডেথ রেফারেন্স (যাবতীয় নথি) হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়।
গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। এ ছাড়া আসামি সোহেলকে পাঁচ লাখ ও স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দিতে বলা হয়।
জরিমানার টাকা না দিলে কালেক্টরেট অফিসকে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও তা বিক্রি করে রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারদের বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১৯ মে সকালে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ার ফ্ল্যাটে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যার শিকার হয় শিশু রামিসা। পরদিন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করে পুলিশ ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। একই দিনে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এবং মামলাটি বিচারের জন্য পাঠানো হয়।
১ জুন আদালত দুই আসামি, সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করে। পরদিনই অভিযোগপত্রভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়।


