‘রাজনৈতিক হত্যা’র ভারতীয় ভুয়া খবরের প্রতিবাদ

‘রাজনৈতিক হত্যা’র ভারতীয় ভুয়া খবরের প্রতিবাদ
Advertisement
Advertisement

ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক বিতর্কিত সংস্থা ‘রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালাইসিস গ্রুপ’ (আরআরএজি)-এর বাংলাদেশে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড’ হচ্ছে বলে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তার প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

গত ৬ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি দাবি করেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ‘অন্তত ১২৩ জন আওয়ামী লীগ এবং সহযোগি সংগঠনের সদস্য’কে হত্যা করা হয়েছে, যা নাকি মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে প্রতিশোধমূলক হামলা।

প্রেস উইং বলছে, তাদের এই দাবি বেশিরভাগই মাঠপর্যায়ের তথ্য ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
এছাড়া সংস্থাটি যে ঘটনাগুলোকে ‘রাজনৈতিক হত্যা’ বলেছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাস্তবে সেগুলো হচ্ছে– ব্যক্তিগত বিরোধ, পারিবারিক কলহ কিংবা ভুল বোঝাবুঝির ফল।

উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে মাসুদ ও রিয়ান নামে দুই কিশোর নিহত হয়। আরআরএজে দাবি করে, তারা নাকি ‘জয় বাংলা’ লেখার কারণে ইউনূস সমর্থকদের হাতে খুন হয়। কিন্তু নিহতদের পরিবার জানিয়েছে, তারা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল না এবং এ হত্যাকাণ্ড ছিল দুই প্রতিবেশী কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধের ফল।

আরও পড়ুন

আরেকটি ঘটনায়, ৫ ডিসেম্বর ২০২৪-এ আরিনা বেগম নামের এক গৃহবধূকে খুন করা হয়। RRAG বলছে, তার ছেলে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ তদন্তে তার স্বামীকে গ্রেফতার করে এবং জানা যায়, পারিবারিক সমস্যার কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

এছাড়া ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাবিতে তোফাজ্জল নামে এক মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সংস্থাটি এটিকে ‘রাজনৈতিক হত্যা’ বলে প্রচার করেছে। অথচ তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, বরং দীর্ঘদিন মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা করতেন।

প্রেস উইং ওই প্রতিবেদনটিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করে তীব্রভাবে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর