যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ অঞ্চলের বাইরেও ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়বে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
এই উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মাত্র দুই থেকে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন।
তবে ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের মধ্যকার শান্তি আলোচনায় ইতিমধ্যে অনেক অগ্রগতি হয়েছে এবং ইরানও একটি চুক্তিতে আসতে আগ্রহী।
ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে তাদের ওপর পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রস্তুত, ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ অবস্থায় রয়েছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূচনা হয়। দীর্ঘ প্রায় তিন মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট ‘স্ট্রেইট অব হরমুজ’ বা হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে, যা বজায় রাখতে এবং চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পাকিস্তানসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ মধ্যস্থতা করছে।
সম্প্রতি সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে ট্রাম্প তার পূর্বনির্ধারিত একটি সামরিক হামলা স্থগিত করেন এবং আলোচনার সুযোগ দেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তারা মার্কিন চাপ ও হুমকির মুখে সহজে পিছু হটবে না এবং যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে শত্রুপক্ষকে চমকে দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। সূত্র: আল-জাজিরা


