মোবাইল বিক্রি না করায় কিশোরকে হত্যায় মামা-ভাগ্নের যাবজ্জীবন

মোবাইল বিক্রি না করায় কিশোরকে হত্যায় মামা-ভাগ্নের যাবজ্জীবন
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

ভোলা সদর উপজেলায় মোবাইল বিক্রি না করায় শ্বাসরোধ করে কিশোর রেদোয়ান রাসেল হত্যা মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন জেলা ও দায়রা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের। এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পাঙাশিয়া গ্রামের মো.সুজন ও তার মামা মো. ইলিয়াস।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারসূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিশোর রেদোয়ান রাসেল তার বাবার হাওলাদার বাজারের মুদি দোকানে ছিল। এসময় তার সঙ্গে মায়ের কেনা নোকিয়া ১১০০ মডেলের একটি মোবাইল ফোন থাকতো। মোবাইল ফোনে কথা বলার কথা বলে প্রতিবেশী সুজন তাকে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে যায়, এরপর থেকে রেদোয়ান নিখোঁজ ছিল। নিখোঁজের একদিন পর ৩০ ডিসেম্বর দক্ষিণ চরপাতা দারোগার খালের পাশে সিদ্দিক মালের বাড়ির সামনে এক কিশোরের মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে ভোলা পৌরসভার সরকারি গোরস্থানে মরদেহ দেখে পরিবারের সদস্যরা রেদোয়ানকে শনাক্ত করেন। মরদেহের মুখ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় রেদোয়ানের বাবা আব্দুল হক বাদী হয়ে ২০০৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোলা সদর মডেল থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন, তদন্ত শেষে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তারা সুজন ও ইলিয়াসকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে ২০০৯ সালের ২৩ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।

এবিষয়ে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. তৈয়ব বলেন, স্বাক্ষ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালত আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছি। সামান্য একটি মোবাইলের জন্য হত্যাকাণ্ড সামাজিক অবক্ষয়ের নমুনা, লৌহমর্ষক নির্মম হত্যাকাণ্ড এটি। ভুক্তভোগীকে গলাটিপে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে খালে ফেলে দিয়েছিল আসামিরা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad