কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একাধিক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক মাদ্রাসার মুহতামিম ও শিক্ষককে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। এসময় তাকে আটক করতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় আহত হন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) তিন পুলিশ সদস্য। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানও।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের মালিথাপাড়া এলাকার মার্কাজুল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের নাম আশিকুল্লাহ (৪০)। তিনি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও মুহতামিম। আশিকুল্লাহ যশোরের বাঘারপাড়া থানার জামদিয়া এলাকার বাসিন্দা।
জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার ও আটক করতে গিয়ে আহত হন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলাম ও কনস্টেবল আজম হোসেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মার্কাজুল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে পড়ুয়া একাধিক ছাত্রকে বিভিন্ন সময় আশিকুল্লাহ যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসায় গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে মারধর শুরু করেন।
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘মাদ্রাসার হুজুর বিভিন্ন সময়ে আমার ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। উপায় না পেয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানাই। পরে পরিবারের লোকজন এসে মাদ্রাসায় হুজুরকে আটকে রাখে ‘
ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থীর স্বজন বলেন, ‘মৃত মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে ছেলেকে হাফেজ বানানোর উদ্দেশ্যে মাদ্রাসায় দিয়েছিলাম। অথচ সেখানে আমার ছেলে এমন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হলো। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
খলিশাকুন্ডি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, ‘মাদ্রাসার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।’
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষককে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়ার সময় জনতার হামলায় আমিসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


