মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
তিনি বলেন, ‘প্রার্থীতা বাছাইয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা গেছে, যা নির্বাচনের সমতা ও ন্যায্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’
বুধবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ অভিযোগ করেন।
মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিকত্বের মতো একই ধরনের ঘটনায় কোথাও মনোনয়ন নেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও বাতিল করা হয়েছে। যেমন–আবদুল আউয়াল মিন্টু, সিলেটের বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মালেকসহ প্রায় ১২ থেকে ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে কয়েকজনের মনোনয়ন নেওয়া হয়েছে। অথচ একই ঘটনায় আমাদের কুড়িগ্রামের প্রার্থী মাহবুব সালেহীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’
তিনি আরও বলেন,‘ আওয়ামী সরকারের সময় জামায়াতের তিনজন নেতাকে অবৈধভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে দুজনের মনোনয়ন নেওয়া হলেও একই মামলা ও একই আদালতের রায়ে জ্যেষ্ঠ নেতা হামিদুর রহমান আজাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।’
‘একই দেশে, একই আইনে দুই রকম সিদ্ধান্ত–এটা মেনে নেওয়া যায় না’, বলেন তিনি।
বৈষম্যের পেছনে প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তাহের বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় দলীয় জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা আইন নয়, দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’
এ কারণে দলীয় ডিসি ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) অপসারণ করে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘একটি দলকে ব্যাপক প্রচারণার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’
আমি আজ তথ্য উপদেষ্টাকে ফোন করে বলেছি, আপনাদের টেলিভিশন এখনো নিরপেক্ষ হয়নি। উনি অনেকটাই স্বীকার করেছেন এবং অসহায়ত্বের কথা বলেছেন’, যোগ করেন তাহের।
নিরাপত্তা প্রদানের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘কিছু ব্যক্তিকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, অথচ একই পর্যায়ের অন্য নেতারা তা পাচ্ছেন না। নিরাপত্তা বেশি বা কম দেওয়া আমাদের ইস্যু নয়, কিন্তু নির্বাচনের সময় এ ধরনের বৈষম্য জনমনে প্রশ্ন তোলে।’
প্রচারণা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘একটি দল ভিজিএফ কার্ড, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করছে এবং বলছে, ক্ষমতায় গেলে সবাই পাবে।‘
‘এটি স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন। বিষয়টি আমরা জানিয়েছি। ইসি আশ্বাস দিয়েছে–এমন কিছু ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা অপেক্ষায় আছি।’
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সিসিটিভি স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন নীতিগতভাবে একমত হয়ে জানিয়েছে, বিদ্যুৎহীন ও দুর্গম এলাকা ছাড়া অন্তত ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানো হবে।’
‘আমরা এই আশ্বাসের বাস্তবায়ন চাই’, বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সংকটের মূল কারণ হচ্ছে বিগত ৫৬ বছরে একটি সত্যিকারের সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়া। আগামী নির্বাচন যদি আবার সাজানো নির্বাচন হয়, তাহলে দেশ অস্তিত্বের সংকটে পড়বে এবং আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে যাবে।’
ডিসি-এসপিদের তালিকা দেওয়া হয়েছে কি না–এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো তালিকা দিইনি। পর্যবেক্ষণ করছি, প্রমাণ সংগ্রহ করছি। যথাযথ প্রমাণসহ তালিকা দিলে ইসি ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তাহের বলেন, ‘কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি।’
ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) মৃত্যুর পর শোক জানাতে গিয়েছিলাম। আমরা বলেছি–নির্বাচনের রায় যাই হোক, সবাইকে মেনে নিতে হবে এবং দেশ পরিচালনায় পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ থাকতে হবে।’
৫৬ বছরে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বলিনি সব নির্বাচন বিতর্কিত। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচন কিছুটা গ্রহণযোগ্য ছিল। তবে যেভাবে একটি গভীর ও নির্ভুল সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া দরকার ছিল, সে রকম নির্বাচন বাংলাদেশে হয়নি।’


