আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘ভোট যুদ্ধ’ মোকাবিলায় দলীয় নেতাকর্মীদের একযোগে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ বাস্তবে রূপ দিতে হলে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। এ সমর্থনকে দলের পেছনে আনতে হলে নেতাকর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ জরুরি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনার কর্মসূচি’ শীর্ষক কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘এক বছর, সোয়া বছর আগে যে কথাটি বলেছিলাম যে সামনের নির্বাচন যা ভাবছেন তা নয়। আজকে আস্তে আস্তে আমার কথাটা প্রমাণিত হচ্ছে। এখনো যদি আমরা সিরিয়াস না হই, সামনে এ দেশের অস্তিত্ব, সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে।’
এটা একমাত্র বাঁচাতে পারে গণতন্ত্র এবং সেই গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করতে পারেন আপনারা-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রত্যেকটি মানুষ, যোগ করেন তিনি।
কর্মশালায় সারা দেশের বিভিন্ন স্তরের বিএনপি নেতারা অংশ নেন। গত রোববার থেকে কর্মশালা শুরু হয় এবং প্রতিদিন দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা এতে অংশ নিচ্ছেন।
তারেক রহমান মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা পরীক্ষিত নেতাকর্মী। শত অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্যেও আপনারা দলকে ধরে রেখেছেন। ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্র থেকে শুরু করে গত স্বৈরাচারের ১৫ বছরের ষড়যন্ত্রও আপনারা মোকাবিলা করেছেন। তাহলে সামনে যে নির্বাচনী যুদ্ধ, সেটাও মোকাবিলা করতে পারবেন না কেন?’
তিনি যোগ করেন, মাঠের নেতাকর্মীরা চাইলে সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে পারবেন এবং অবশ্যই তা করতে হবে। সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‘ধানের শীষের পক্ষে জনমত গড়তে হবে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিজ এলাকায় গিয়ে দলের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে হবে। আপনার সামনে ব্যক্তি নয়, থাকবে ধানের শীষ। ধানের শীষকে বিজয়ী করতে জনগণের মতামতকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে এবং সেই মতামতকে ব্যালট বক্সে নিয়ে আসতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মিটিং করে বললে হবে না। ছোট ছোট গ্রুপ করে ঘরে ঘরে যেতে হবে, মাঠে যেতে হবে, কৃষকের ক্ষেতে যেতে হবে, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিমদের কাছে যেতে হবে, প্রাইমারি ও হাইস্কুলের শিক্ষকদের কাছে যেতে হবে, ঘরে ঘরে মা-বোনদের কাছে যেতে হবে, স্কুল-কলেজের তরুণ-তরুণী ও যুবকদের কাছে যেতে হবে। আপনারা স্বৈরাচারকে মোকাবিলা করেছেন, ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেছেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপনের এই কাজেও সফল হতে হবে।’
আপনারা মাঠে নামলে বিভ্রান্তিকারীও পিছু হটবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনাগুলো জনগণ জানে না। তাদের জানাতে হবে। আপনি যদি না যান, অন্য কেউ গিয়ে মিথ্যা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কাজেই এই বিভ্রান্তি বন্ধ করতে আপনাকে যেতে হবে। আপনি মাঠে হাজির হলে আর কেউ বিভ্রান্তি ছড়াতে পারবে না।’
নিয়ম সবার জন্য সমান করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় দেখি কিছু ব্যক্তি মসজিদে গিয়ে কথা বলছেন। তারা যদি বলতে পারে, আপনি কেন পারবেন না? বললে সবাই বলবেন, না বললে কেউ বলবেন না। নিজ নিজ এলাকায় সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেন।


