কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওয়াবেদ বলেছেন, ‘বৈশ্বিক বিভিন্ন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্ব হারাচ্ছে।’
বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এনজিও ও আইএনজিও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক নানা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপা পড়ে যাচ্ছে। অথচ এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ববাসীর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তব সংকট।’
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনসংখ্যার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। তবুও মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরে গিয়ে নিরাপদে বসবাস করুক, কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করুক এবং তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পাক।’
বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তবে সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সরকার কাজ করছে।’
তিনি জানান, ‘মিয়ানমার সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারি সংস্থার পাশাপাশি চীন, ভারত, আসিয়ানভুক্ত দেশ, মুসলিম বিশ্ব ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’
এ সময় প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ায় শিক্ষা, খাদ্য ও বাসস্থান খাতে সংকটের কথা তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কক্সবাজারে পৌঁছায়। তারা উখিয়ার ক্যাম্প-৪-এর ডব্লিউএফপির খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র, এলপিজি বিতরণ কেন্দ্র, ক্যাম্প-১৮-এর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৮ ওয়েস্টের এমএসএফ হাসপাতাল এবং কুতুপালংয়ের ইউএনআইকিউএলও প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেন।
প্রতিনিধিদলে প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার উইংয়ের মহাপরিচালক তৌফিক-উর রহমান, পরিচালক (এসএমও) শামীমা ইয়াসিন স্মৃতি, এপিএস (এসএমও) মোহাম্মদ ফজলুল হক এবং মিয়ানমার উইংয়ের সহকারী সচিব জাহিদ হাসান শিহাব।
সভায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমানসহ প্রশাসন, এনজিও ও আইএনজিওর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


