ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের নির্বাচনী হলফনামায় জাল শিক্ষাগত সনদ ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের অনুসন্ধান এবং তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন ওই আসনের ভোটার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
মঙ্গলবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এসএম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটের শুনানি হয়। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাফসান আলভী। তিনি বুধবার টাইমসকে বলেন, রিটের শুনানি হয়েছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত শুনানি হবে বলে আদালত জানিয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, গত ২৫ আগস্ট রিটকারী নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন এবং ৩১ আগস্ট রিটের অ্যাফিডেভিট করা হয়। নির্বাচন কমিশনকে অনুসন্ধানের জন্য কমিটি গঠনের সময় না দিয়েই রিট করা হয়েছে। আদালত নির্বাচন কমিশনকে সময় দিয়ে কিছুদিন পর শুনানি করতে বলেছে।
রিটকারী গত ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনে দেওয়া আবেদনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৯১এফ ধারায় নয়নের সদস্য পদ বাতিলের আবেদন করেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য ও জাল সার্টিফিকেট দিয়ে ভোটারদের প্রতারিত করা হয়েছে।
ইবাইস ইউনিভার্সিটির সনদ নিয়ে অভিযোগ
রিটে বলা হয়, সংসদীয় আসন নম্বর ১১৮, ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন নির্বাচিত হন। তিনি বর্তমানে বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক। রিটকারীর অভিযোগ, নির্বাচনী হলফনামায় নয়ন তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) উল্লেখ করেন। এর সঙ্গে ইবাইস ইউনিভার্সিটি থেকে ‘মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন উইথ মেজর ইন ম্যানেজমেন্ট’, সিজিপিএ ৩.২৮, নভেম্বর ২০০৮-এর একটি সনদ দাখিল করেন।
রিটে দাবি করা হয়, ইবাইস ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ওই সনদটি জাল এবং এটি তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ নয় বলে জানায়। এ কারণে রিটকারীর অভিযোগ, হলফনামায় মিথ্যা শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য দিয়ে নয়ন তাকে এবং ওই সংসদীয় আসনের লাখো ভোটারকে প্রতারিত করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার দাবি নিয়েও প্রশ্ন
রিটে আরও বলা হয়, নুরুল ইসলাম নয়ন বিভিন্ন বক্তব্য ও বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের কথা প্রচার করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক ছাত্র ছিলেন বলেও দাবি করেন। রিটকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ছাত্ররাজনীতির সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিকবারের সহসভাপতি এবং বর্তমানে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ কারণে রাজনৈতিক জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
তবে রিটকারীর দাবি, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের নথিতে নুরুল ইসলাম নয়নের নাম পাওয়া যায়নি। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সার্টিফিকেট ও মার্কশিট শাখায় ‘মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন, পিতা: মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া’ নামে ইংরেজি বিভাগের ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি বলে রিটে দাবি করা হয়।
রিটকারীর ভাষ্য, এতে প্রমাণ হয়, নয়ন কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। অথচ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্বের পরিচয় ব্যবহার করে চরফ্যাশন ও মনপুরার লাখো ভোটারকে প্রতারিত করেছেন।
রিটে আরও বলা হয়, উইকিপিডিয়ায় নুরুল ইসলাম নয়নের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের তথ্য রয়েছে। রিটকারীর দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর আবাসিক হল, রেজিস্ট্রার ভবনের মার্কশিট ও সার্টিফিকেট শাখায় ভর্তি ও অ্যাকাডেমিক ফলাফলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু আবাসিক হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সংশ্লিষ্ট শাখায় নয়নের নামে কোনো শিক্ষার্থীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।


