নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নিজের দাবি আবারও জোরালো করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন এবং এ কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য তিনি। তবে এবার এই পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় রয়েছে তার।
এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এমন কিছু করেছি, যা আর কেউ কখনো করেনি। আমি বড়াই করছি না, শুধু ঘটনা বলছি। কোনো প্রেসিডেন্টই সম্ভবত কোনো যুদ্ধ মেটাতে পারেননি। আমি আটটি যুদ্ধ মিটিয়েছি।’
এ পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না, তাদের সিদ্ধান্ত কী হতে যাচ্ছে। আমার মতো মানুষদের হয়তো তারা পুরস্কার দিতে চায় না, এমন একটা সুনাম তাদের রয়েছে।’
তবে ট্রাম্পের ‘আটটি যুদ্ধ’ শেষ করার দাবি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার তালিকায় থাকা কয়েকটি সংঘাত যুদ্ধের পর্যায়েও যায়নি। যেমন সার্বিয়া ও কসোভোর বিরোধ ট্রাম্পের দুই মেয়াদের কোনোটিতেই বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়নি। অন্যদিকে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতও শেষ হয়নি; বরং এতে এখন যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চললেও এখনো স্থায়ী কোনো সমঝোতার লক্ষণ নেই। এমন পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, শিগগিরই তিনি ‘আরেকটি’ সংঘাতের অবসান ঘটাবেন।
নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রসঙ্গে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের পূর্বসূরি বারাক ওবামার সমালোচনাও করেন। ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ওবামাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হয়।
ট্রাম্প বলেন, ‘ওবামা এটি পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি এখনো জানেন না কেন পেয়েছিলেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই এটি পেয়েছিলেন।’
নিজের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটি পাই বা না পাই, আমি তার চেয়ে অনেক বেশি করেছি।’
তবে ট্রাম্পের শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবির সঙ্গে তার দ্বিতীয় মেয়াদের বৈদেশিক নীতির বাস্তবতার অসঙ্গতি নিয়েও রয়েছে সমালোচনা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে দেড় বছর পরও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। গাজায় যুদ্ধের তীব্রতা কমলেও সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ ও অনির্দিষ্ট যুদ্ধ থেকে দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে এখন তার সমালোচকেরা বলছেন, তিনি নিজেই যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন একটি সংঘাতে জড়িয়েছেন।
বুধবার ওবামা, জো বাইডেন ও হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা করেননি বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে খুব খারাপ কিছু করতে পারতাম। জো বাইডেনের সঙ্গেও খুব খারাপ কিছু করতে পারতাম। বারাক হুসেইন ওবামার সঙ্গেও খুব খারাপ কিছু করতে পারতাম।’
হোয়াইট হাউস থেকে টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে নির্বাচনী সমাবেশে যাওয়ার সময়ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজের আগের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধে জয় হয়েছে, তবে এখনো ‘শেষ হয়নি’।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে এবং দেশটির সামরিক শক্তিও ‘পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন’হয়ে গেছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


