নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৭০০ জনের বেশি।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, জনবসতি ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সোমবার অভিযান আরও জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা সোমবার জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯০৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক।
চীনা কর্তৃপক্ষের সবশেষ হিসাব অনুযায়ী, তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে শতাধিক নেপালের নাগরিক।
ফলে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৯১৯ এবং নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৮০০।
নেপালি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত বলেন, পাহাড়, জনবসতি ও নদী এলাকা থেকে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করে উদ্ধারে কাজ চলছে।
স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে একাধিক দেশের বিশেষজ্ঞ দলও যোগ দিয়েছে। জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণাধীন টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে এসব দল কাজ করছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একাধিক টানেলে অন্তত ৯০ জন আটকা পড়ে আছেন।
বুধবার হিমালয়ের উঁচু এলাকায় একটি হিমবাহ ধসে এই বন্যার সূত্রপাত হয়। স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হিমবাহের নিচে থাকা মূল শিলাস্তরের একটি অংশ ধসে পড়েছিল। এতে হিমবাহের একটি বড় অংশও ভেঙে নিচে নেমে আসে।
শিলাস্তরের এই ধস এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ভূকম্পন হিসেবে এর মাত্রা ৫ দশমিক ২ রেকর্ড করা হয়।
হিমবাহের সঙ্গে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ পাথর এবং গলে যাওয়া বরফের পানি নিচের উপত্যকার নদীগুলোতে প্রবেশ করে। এতে নদীগুলোর পানি দ্রুত ফুলে ওঠে এবং সৃষ্টি হয় ভয়াবহ স্রোত।
পানির সঙ্গে পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল ঢল নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন উপত্যকা দিয়ে নেমে আসে। এর তোড়ে বাড়িঘর, সেতু, সড়ক ও অন্যান্য স্থাপনা ভেসে যায়।
দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে উঠেছে। নিখোঁজদের বড় একটি অংশ এখনো কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


