নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭৯ জনে। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযানে মৃতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় এখনো প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের বরাতে সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান এখনো চলছে। একই সঙ্গে দুর্গত অঞ্চলে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু করতে এবং বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট বাধা সরানোর কাজও অব্যাহত রয়েছে।
তবে সীমান্তের তিব্বত অংশে একটি পানির বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সতর্কতা জারি করেছে নেপাল পুলিশ। এতে বাসিন্দা, উদ্ধারকর্মী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাঁধ ভেঙে ফের ঢলের শঙ্কা থেকে এরইমধ্যে তিব্বত অঞ্চলে উদ্ধার অভিযান বন্ধ ঘোষণা করেছে চীনের কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলা থেকে ১১৯ জন বিদেশিসহ তারা প্রায় ৯০০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। তাদের মধ্যে ৯২ জনই ভারতের নাগরিক।
নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজরাম বাসনেট উদ্ধার অভিযান পরিদর্শনে গিয়ে সেনা ব্যারাকের সামনে থেকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, উদ্ধার করা ৯০০ জনই আহত হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের আঘাতের মাত্রা বা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
বাসনেট বলেন, ‘বৃষ্টি ও অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তবে আমরা সব সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করার চেষ্টা করছি।’
এই বিপর্যয়ের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে চাইলে নেপালের সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি জীবনে কখনো এ ধরনের দুর্যোগ দেখিনি।’
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তিব্বত সীমান্তে চলমান উদ্ধারকাজের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বুধবার আঘাত হানা দুর্যোগের দুইদিন পরও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সরানো হচ্ছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে।
একই সঙ্গে বন্যার পানিতে তৈরি হ্রদ ও নদীতে পানির চাপ বাড়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।


