কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগের পরিকল্পনা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে এআই নিয়ে কাজ করতে একটি বিশেষ ‘এআই ফোর্স’ গঠনের কথাও বলেছেন তিনি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ পরিকল্পনার কথা জানান। তবে নতুন উপদেষ্টা ও ‘এআই ফোর্স’ কীভাবে কাজ করবে, তাদের দায়িত্ব কী হবে কিংবা উদ্যোগগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তির কারণে মানুষ ও সম্পদের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি মাসের শুরুতে অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সন এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘যারা এআই তৈরি করছেন, তারা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেন যে এই দশকের শেষ নাগাদ এটি আমাদের সবাইকে মেরে ফেলতে পারে।’
তবে ট্রাম্প এআই নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব কম দিয়ে দেখেছেন। তিনি প্রযুক্তিটির ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণেরও বিরোধিতা করে আসছেন।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমরা কোনোভাবেই এই অবিশ্বাস্য শিল্পের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত বা রুদ্ধ করব না। এর বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে আমরা একে লালন করব, সহায়তা করব ও এর ওপর নজর রাখব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ক্ষতিকর বা খারাপ বিষয়গুলোর দিকেও নজর রাখব। আমাদের বিদ্যমান ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা তা খুব সহজেই করতে পারব।’
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হলে ট্রাম্প প্রশাসনে এআই বিষয়ে এটি হবে দ্বিতীয় ‘এআই জার’ নিয়োগ। এর আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাকস এই দায়িত্বে ছিলেন। বসন্তে তিনি পদটি ছাড়েন।
এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন স্যাকসও। বুধবার পলিটিকোর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এআই নির্মাতাদের নিজেদের পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাদের দায়ী করা যেতে পারে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের কয়েক দিন আগে নতুন এ পরিকল্পনার কথা সামনে এলো। আগামী বৃহস্পতিবার দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এআই প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দুই দেশের সরকারই অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির জন্য এ প্রযুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।
ট্রাম্প ও প্রযুক্তি খাতের নির্বাহীদের মতে, অতিরিক্ত বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রে এআইয়ের উন্নয়ন ধীর করে দিতে পারে। এতে চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মার্কিন কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা কমতে পারে। তবে এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা এ দাবির বিরোধিতা করে আসছেন।


