ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের একযোগে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আর ঘরে বসে থাকার বিন্দুমাত্র সময় নেই। মাঠে চলে যেতে হবে। মাঠে-ঘাটে, পথে-প্রান্তরে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’
মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনার কর্মসূচি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা বিএনপির কাছে নিরাপদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের রায় নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে অবশ্যই দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীন করা হবে। ‘বিএনপির রেকর্ড আছে, ক্ষমতায় থেকে আমরা দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরেছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে একটি দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সেই দুর্নীতি দমন কমিশনকে এতটাই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, সরকারের কোনো বিষয়ে তদন্ত করতে চাইলে কমিশনের সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হতো না। কমিশন ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীন,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, গত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার এই নিয়ম পাল্টে দিয়েছে। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে এটিকে আবার পরিবর্তন করা হবে।
‘দেশ গড়া পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যে অন্যায় করে সে কোনো দলের হতে পারে না। অন্যায় যে করে সে অন্যায়কারী। তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে। কথার ফুলঝুরি দিয়ে জনগণের পেটে খাবার আসে না, কথার ফুলঝুরি দিয়ে কর্মসংস্থান হয় না, কথার ফুলঝুরি দিয়ে জনগণের আয় ও কর্মসংস্থান তৈরি হয় না। কর্মসংস্থান করতে হলে পরিকল্পনা লাগে, জনগণের পেটে ভাত দিতে হলে পরিকল্পনা লাগে, যা বিএনপির আছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারি, জনগণকে সঙ্গে রাখতে না পারি, তাহলে দেশের অস্তিত্ব নিয়ে ভবিষ্যতে প্রশ্ন দেখা দেবে। জনগণ দেখতে চায় বিএনপি কাজ করছে কি না, করতে পারবে কি না। আমরা ৪০ শতাংশ করতে পারলে জনগণ আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবে।’
‘তালপট্টি দ্বীপ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তালপট্টির ওপর বিএনপি নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এটি ছিল আমাদের দেশের অংশ। ঠিক একইভাবে আমরা পানির হিস্যাও বের করে এনেছিলাম।’
তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর করার পাশাপাশি ফ্রি ইন্টারনেট, প্রান্তিক মানুষ থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য ফার্ম কার্ড, সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য কার্ড, ভোকেশনাল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


